
প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পুনর্ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্যকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে অংশীদারত্ব নবায়ন করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। নতুন সমঝোতার আওতায় আগামী দুই বছর যৌথভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরিচালনা করবে প্রতিষ্ঠানগুলো।
সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান এবং করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার।
আয়োজকেরা জানান, ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভ্যালু চেইন উন্নয়নে কাজ করছে এই উদ্যোগ। এর আওতায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ভাঙারিওয়ালা ও রিসাইক্লারদের সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পমূল্যের প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবস্থাপনায় প্রণোদনাভিত্তিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
উদ্যোগটির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত তিন হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ২২০ জন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নিরাপত্তা সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে চালু হওয়া গ্রুপ লাইফ ইন্স্যুরেন্স সুবিধার আওতায় ১ হাজার ৮২৭ জন বর্জ্যকর্মী আর্থিক সুরক্ষার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
আয়োজকদের তথ্যমতে, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৩২ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক। এছাড়া কমিউনিটি সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার ও ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গঠনে সহায়ক হবে।
ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ইপসার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবদানের জন্য দুইজন বর্জ্য সংগ্রাহক ও দুইজন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।