
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করে গত ১৭ বছর একে এক ব্যক্তির সম্পত্তিতে রূপান্তর করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, চাটুকারিতা ও তৈলমর্দনের জন্য ইতিহাস বিকৃত করে বই লেখা হয়েছে, যার মাধ্যমে একটি ফ্যাসিবাদী মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করা হয়েছিল।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘বিগত সরকার একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছ থেকে বই সংগ্রহ করত। আমরা সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। আগামী দিনে সৃজনশীল এবং সত্য ইতিহাস নির্ভর বই প্রকাশিত হবে। শুধু মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় নয়, সব মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রকাশনায় সত্য ইতিহাসকে তুলে ধরা হবে।’
নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেছি। সেখানে বাংলা বিষয় থাকলেও আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও বাংলার ইতিহাস সেভাবে পড়ানো হয়নি। আমি আশা করি, নতুন সরকারের আমলে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।’
ঢাকা-৬ আসনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে বাংলাবাজারের প্রকাশনা ও মুদ্রণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ব্যবসার উন্নতির জন্য আমাকে সবসময় পাশে পাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে সত্য ইতিহাস প্রকাশে প্রকাশকদেরই সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে ইশরাক বলেন, ‘আমি মাঠের রাজনৈতিক কর্মী। রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করে আজকের এই অবস্থানে এসেছি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনই আমার শিকড়, তা আমি কোনোদিন ভুলব না।’ দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশনায়ক তারেক রহমান আমার ওপর বিশ্বাস রেখে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, জনগণের সেবা ও শহরের সমস্যা নিরসনে আমি তা যথাযথভাবে পালন করতে সদা প্রস্তুত।’