
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল অবকাঠামোতে শনিবার হামলা করে ইরান। ছবি : এএফপি
ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থি আন্দোলন হামাস ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তেহরানের আত্মরক্ষার অধিকারকেও তারা সমর্থন করে বলে জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
আজ শনিবার (১৪ মার্চ) করা বিরল এই আবেদনে হামাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে যাতে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তেহরানের প্রতি তাদের প্রথম এই ধরনের আবেদনে হামাস বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক নীতি ও আইন অনুযায়ী সম্ভাব্য সকল উপায়ে এই আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার অধিকার ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রয়েছে—এটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামাস ইরানের ভাইদের প্রতি প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।’
ইসরায়েলের সঙ্গে গাজায় দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধ করা এই গোষ্ঠীটি বর্তমান যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার লক্ষে কাজ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছে।
এর আগে যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে হামাস একটি ‘জঘন্য অপরাধ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছিল এবং ফিলিস্তিনি আন্দোলনে তাঁর দীর্ঘদিনের সমর্থনের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিল। খামেনির মৃত্যুর পরপরই গোষ্ঠীটি বলেছিল, ‘তিনি আমাদের জনগণ, আমাদের লক্ষ্য এবং আমাদের প্রতিরোধের জন্য সকল প্রকার রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন যুগিয়েছেন।’
হামাসের একজন কর্মকর্তা এএফপি-কে জানিয়েছেন, এই ইস্যুতে তারা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রটি জানায়, ইসরায়েলি দখলদাররা ইরান এবং তার আরব ও মুসলিম প্রতিবেশীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
হামাসের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘হামাস নেতৃত্ব কাতার, তুরস্ক ও ইরাকসহ বেশ কয়েকটি দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও জায়নবাদী আগ্রাসন বন্ধে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উন্নত সমরাস্ত্রের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে অন্তত ১০টি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কাতার জানিয়েছে, তারা শনিবার দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এর আগে রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং কর্তৃপক্ষ কিছু এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়।
হামাস এমন এক সময়ে ইরানের প্রতি এই আহ্বান জানাল যখন তাদের মিত্র লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পুনরায় এই সংঘাতের ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের দিকে শত শত রকেট নিক্ষেপ করেছে। খামেনি নিহত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ সরাসরি লড়াইয়ে যোগ দেয় এবং লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এরপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে প্রায় ৮০০ মানুষ নিহত হয়েছে।