
যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও থামছে না যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানের মধ্যেই তেহরানের কাছে অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলছেন, ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে তেহরান অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও সামরিক অভিযানে নেমেছে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালীতে ইরানি ও মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে ‘বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের’ খবর দিয়েছে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বন্ধে অন্তর্বর্তী সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৮ মে) ইতালি সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, তেহরানের কাছ থেকে দ্রুতই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশা করছে ওয়াশিংটন।
প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় অন্তত ৬০ দিনের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরান প্রস্তাবটি এখনও পর্যালোচনা করছে এবং এর বিপরীতে নিজেদের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, অবরোধ ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করা দুটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়। একই রাতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে ইরান হামলার চেষ্টা চালায় বলে দাবি করেছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, যখনই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়া সামরিক অভিযানে যায়। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির সময়েই ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎক্ষেপণ সক্ষমতা পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ করেছে।
যুদ্ধবিরতি এখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি এবং আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সমঝোতা না হলে ইরানকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে।
আঞ্চলিক কূটনীতিকরা মনে করছেন, ইরান আলোচনার মাধ্যমে আংশিক বিজয়ের বার্তা দিতে চাইলেও সময়ক্ষেপণের কৌশলও নিতে পারে। এতে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর যুদ্ধ শেষ করার চাপ আরও বাড়বে।