News update
  • SSC and Equivalent Exams Begin Nationwide     |     
  • US, Iran Signal War Readiness as Talks Hang in Balance     |     
  • Bangladesh, EU Push for FTA, Investment Pact Talks     |     
  • Over 1.14cr workers sent to Middle East in 22 years     |     
  • BNP finalizes 36 nominations for women’s seats in Parliament     |     

ট্রাম্পের হুমকিকে পাত্তাই দিলো না ইরান, ভয়াবহ হামলা কুয়েত-ইসরায়েলে

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-04-05, 10:13am

ertewtetet-c981b7389f90e207390c1793f9493a3c1775362386.jpg




ট্রাম্পের হুমকিকে পাত্তাই দিলো না ইরান, ভয়াবহ হামলা কুয়েত-ইসরায়েলেমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার চরম আল্টিমেটামকে এক প্রকার হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটনের রক্তচক্ষু ও ভয়াবহ হামলার হুমকিকে কোনো পাত্তাই দেয়নি তেহরান। উল্টো ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মার্কিন মিত্র কুয়েত ও ইসরায়েলে একযোগে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে নিজেদের বিধ্বংসী শক্তির জানান দিল দেশটি। 

ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ট্রাম্পের এই হুমকিকে স্রেফ ‘অসহায়, নার্ভাস ও বোকামিপূর্ণ’ আস্ফালন বলে কঠোর উপহাস করেছে। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের। 

এর আগে ট্রাম্প চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো চুক্তিতে না আসে কিংবা অবরুদ্ধ করে রাখা হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে তাদের ওপর যেকোনো সময় ‘সবচেয়ে ভয়াবহ ও চূড়ান্ত হামলা’ চালানো হবে। 

ট্রাম্পের এই আল্টিমেটামকে তোয়াক্কা না করেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবার কুয়েতকে কাঁপিয়ে দিয়েছে ইরান। কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলায় দেশটির দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ভয়াবহ হামলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানের একটি শক্তিশালী ড্রোন সরাসরি দেশটির সরকারি মন্ত্রণালয়ের অফিস কমপ্লেক্সেও আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি শুওয়াইক তেল খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো—বিশেষ করে কুয়েত—সম্প্রতি ইরানের ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার জবাব হিসেবে চালানো হচ্ছে। এর আগে, মাসের শুরুতে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকেও ড্রোন হামলা হয়েছিল।

এদিকে, কুয়েতের পাশাপাশি একই সময়ে সুদূর ইসরায়েলের আকাশেও সাইরেন বাজিয়ে দিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ধেয়ে এসেছে ।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজস্ব ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাপে দেওয়া পোস্টে লিখেছিলেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে—৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ মুক্ত না করা হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি নেমে আসবে।” গত ২৭ মার্চ তিনি ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মার্কিন হামলা সাময়িকভাবে ১০ দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হতে চলেছে আগামীকাল সোমবার (৬ এপ্রিল)।

উল্লেখ্য, বিগত প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তার ও নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ভূখণ্ডে একের পর এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালাচ্ছে। তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের নির্বিচার বোমাবর্ষণের প্রথম হামলাতেই দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সহস্রাধিক ইরানি প্রাণ হারিয়েছেন। খামেনির প্রয়াণের পর দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং তীব্র রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলেও ইরান দমে যায়নি। তারা মার্কিন-ইসরায়েলি এই সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই দাঁতভাঙা ও বিধ্বংসী জবাব দিয়ে আসছে।