News update
  • Trump claims Iran won’t close Hormuz strait again     |     
  • Trump says Israel ‘prohibited’ from bombing Lebanon     |     
  • Iran, US say Strait of Hormuz is fully open to commercial vessels     |     
  • WHO, UNICEF Urge Bangladesh to Keep E-Cigarette Ban     |     
  • Nearly 900 Rohingya Dead or Missing in Sea Crossings     |     

রূপপুরে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের লাইসেন্স মিলেছে, উদ্বোধন এপ্রিলের শেষে

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বিদ্যুৎ 2026-04-17, 8:54am

rwrwerwerwet-700cf68dd2d1952f7f1daf1dd6e1aaa81776394440.jpg




নানা বাধা-বিপত্তি পর অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এতে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। এই প্রকল্প চালু না হওয়ায় দেশের ক্ষতি হচ্ছে এটাও চিন্তা করি। বিপুল এই জনসংখ্যার দেশে যদি কোনো অঘটন ঘটে সেই জন্য সেসময় প্রকল্পে ফুয়েল লোডিংয়ের বিষয়ে রাজি হইনি। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (এনপিসিবিএল) পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। এজন্য এনপিসিবিএলের ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্সও দেওয়ার কথা জানান তিনি।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানি লোডিংয়ের লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএলকে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ সন্ধ্যায় জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ড. জাহেদুল হাসান আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এর আগে বায়রা লাইসেন্স দেওয়ায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ঢাকার নভোথিয়েটার থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা ছিল। উদ্বোধনের জন্য  অন্যান্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলেও  জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করা এ সময় সম্ভব হয়নি।

দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনও ব্যবহার করা যায়নি।

জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ  পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক।  জ্বালানি লোডিংয়ের লাইসেন্স পাওয়ার আগে দুই দেশের (বাংলাদেশ ও রাশিয়া) সরকারপ্রধানের সময় নিয়ে উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করায় এ সময় অস্বস্তিতে পড়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে নির্মিত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা)। ২০১৩ সালে চুক্তি স্বাক্ষর এবং ২০১৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়।

প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ চলমান, যা আগামী বছরের শেষ নাগাদ শেষ হতে পারে। পুরো প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে প্রথম ইউনিট থেকে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।