
মানবজাতির প্রথম মহাকাশযাত্রার ৬৫তম বার্ষিকী এবং আন্তর্জাতিক মানব মহাকাশযাত্রা দিবস উপলক্ষে ঢাকার জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর–এ মহাকাশ অভিযাত্রার পথিকৃৎ ইউরি গ্যাগারিন–এর আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছে।
গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাস, রাশিয়ান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি উইথ বাংলাদেশ এবং রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা। এতে সহযোগিতা করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর।
আয়োজকেরা জানান, ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল ইউরি গ্যাগারিনের ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার মাধ্যমে মানবজাতির জন্য মহাবিশ্বের নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছিল। সেই স্মরণীয় দিনকে ঘিরেই এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসের পরিচালক মিস আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয়। তিনি বলেন, মহাকাশ অনুসন্ধান এমন একটি সেতুবন্ধন, যা ভৌগোলিক ও ভাষাগত সীমা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করে। তাঁর ভাষ্য, এই স্মারক রাশিয়া ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বের একটি স্থায়ী প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউরি গ্যাগারিনের সাহসিকতা ও তাঁর অভিযানের বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গ্যাগারিনের মহাকাশযাত্রা ছিল সমগ্র মানবজাতির অর্জন। একই সঙ্গে তিনি মহাকাশ গবেষণায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক মহাকাশে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাশিয়ান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি উইথ বাংলাদেশের সভাপতি জনাব সাত্তার মিয়া বলেন, এই স্মারক বিজ্ঞান ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের প্রতীক। একই ধরনের মত প্রকাশ করেন জাদুঘরের মহাপরিচালক মুনিরা সুলতানা এবং বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন–এর সভাপতি মশহুরুল আমিন। তাঁরা বলেন, এ প্রদর্শনী তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রাশিয়ায় জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য রুশ সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মিস এ. লাহেরির বক্তব্য। তিনি ভবিষ্যতে দেশের বৈজ্ঞানিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের পর রাশিয়ান দূতাবাস স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা, ইংরেজি কবিতা আবৃত্তি এবং রুশ মহাকাশচারীদের ঐতিহ্যবাহী সংগীত ‘গ্রাস নিয়ার দ্য হাউস’ পরিবেশন করা হয়।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মহাকাশবিষয়ক চিত্র প্রদর্শনী, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্মারক টি-শার্ট ও উপহার বিতরণ এবং ত্সিওলকভস্কি আন্তর্জাতিক মহাকাশ চলচ্চিত্র উৎসবের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন ছিল।
আয়োজকদের মতে, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে ইউরি গ্যাগারিনের এই আবক্ষ মূর্তি ঢাকার নতুন একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে যুক্ত হলো, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞানী, পাইলট ও স্বপ্নবাজদের মহাকাশের দিকে তাকাতে অনুপ্রাণিত করবে।