
কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এএস লেভেলের গণিত (পেপার ১২) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ৯ জুন এই বিষয়ে একটি নতুন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে ) ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক অঞ্চল ৩ এবং ৪-এর আওতাভুক্ত দেশগুলোতে ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষাটির প্রশ্নপত্র নির্ধারিত সময়ের আগেই নিয়মবহির্ভূতভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার পর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছে যে, এই প্রশ্নপত্র দিয়ে যথাযথ এবং ন্যায়সংগত ফলাফল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়নের স্বার্থে পরীক্ষাটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই প্রশাসনিক জোনের আওতাভুক্ত। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের একাংশেও এই পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অধিকাংশ খবরই ভুয়া প্রমাণিত হয়। কিন্তু এবার তদন্তে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে প্রশ্নটি আগেভাগেই ছড়িয়ে পড়েছে। মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে ‘ক্যালকুলেটেড অ্যাসেসমেন্ট’ বা পূর্বের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নম্বর না দিয়ে সরাসরি পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার (৯ জুন) এই পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যার জন্য শিক্ষার্থী বা স্কুল কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার অতিরিক্ত ফি প্রদান করতে হবে না। পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও ফলাফল প্রকাশের সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১১ আগস্ট তারিখেই এএস এবং এ-লেভেলের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
ক্যামব্রিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৫ মে-র মধ্যে স্কুলগুলোর কাছে পরীক্ষার নতুন প্রশ্নপত্র সংগ্রহ এবং পরিচালনার বিস্তারিত নির্দেশনা পাঠানো হবে। একইসঙ্গে যারা এই পরীক্ষার পরিবর্তে নভেম্বর সেশনে পরীক্ষা দিতে চান, তাদের জন্য 'উইথড্রয়াল' বা আবেদন প্রত্যাহারের সুযোগ সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হবে।
কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে ‘চুরি’ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত যে কোনো শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।