
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ। ছবি: সংগৃহীত
যেকোনো উৎসবে ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ উৎসবমুখর হয়ে পড়েন। সম্প্রতি বলিউডে পা রেখে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি। কাজের মাঝে নববর্ষের দিন ফুরফুরে মেজাজে দেখ দিয়েছেন অভিনেতা।
নববর্ষের দিন রিকশায় বসে ছবি তুলেছেন তিনি। এছাড়া তার দোতরা বজানোর পোজও সাড়া ফেলেছে। এদিন তিনি পরেছিলেন জিন্সের প্যান্ট। সঙ্গে সাদা টি-শার্ট, উপরে প্যাচওয়ার্কের কোটি। রিকশা পেইন্টের সানগ্লাসও দারুণ মানিয়েছে তাকে।
গলায় পরিহিত নববর্ষের মালাও নজর এড়াইনি নেটিজেনদের। ফ্রেন্সকাট দাড়ির সঙ্গে ঝুটি বেঁধেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে অনবদ্য লুকেই ধরা দেন ঢালিউড পেরোনো বলিউড অভিনেতা।
এছাড়া সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তার ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাই, ব্যক্তিগত জীবনের বিয়োগান্তক ঘটনা এবং বহুল আলোচিত 'মুজিব' সিনেমা নিয়ে নানা বিতর্কের জবাব দিয়েছেন।
২০২৪ সালকে নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে অভিহিত করেছেন শুভ। তিনি জানান, এই বছরেই তিনি তার সবচেয়ে কাছের মানুষ মাকে হারান। একই সময়ে তার দীর্ঘদিনের বৈবাহিক জীবনেরও ইতি ঘটে। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শুভ এক ধরনের 'মিডিয়া ট্রায়ালে'র শিকার হন বলেও দাবি করেন।
শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিকে অভিনয়ের জন্য মাত্র ১ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন শুভ। পরবর্তীতে গুঞ্জন ওঠে, বিনিময়ে তিনি সরকারের কাছ থেকে ১০ কাঠার একটি প্লট উপহার পেয়েছেন।
এ বিষয়ে শুভ বলেন, ‘আমাকে কোনো জমি দেয়া হয়নি। আমি কেবল আবেদন করেছিলাম, যা আরও ১৫১ জন শিল্পী করেছিলেন। ১ টাকা নিয়েছিলাম বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের প্রতি আবেগ থেকে, আর আবেদনটি ছিল ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু সেই জমির কোনো রেজিস্ট্রেশন হয়নি, আমি সেখানে যাইওনি।’
রাজনীতিতে নিজের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত উল্লেখ করে শুভ বলেন, ‘আমার মনে হয় 'মুজিব' সিনেমায় অভিনয় করার কারণেই আমাকে টার্গেট করা হয়েছিল। কিন্তু আমি সারাজীবন অভিনয়ই করেছি। আমাকে কেউ কখনও রাজনৈতিক কোনো কিছুর সাথে প্রমাণ করতে পারবে না।’
এই কঠিন সময়ে সহকর্মীদের পাশে না পাওয়াকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন, কারণ এর মাধ্যমেই তিনি আসল মানুষদের চিনতে পেরেছেন। নিজের জীবনের লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা হিসেবে মাকেই দেখছেন এই অভিনেতা।
সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত মায়ের ৯ বছরের সেবা এবং তার কঠিন সংগ্রামের গল্প শুনিয়ে শুভ বলেন, ‘মা ৯০০০ টাকা বেতনে চাকরি করে আমাদের বড় করেছেন। আমার হার না মানার মানসিকতা তারই দেয়া।’ দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতাকে গুরুত্ব দিলেও মানসিক কষ্টকে সমাজ আজও রোগ হিসেবে গণ্য করতে চায় না।
মুম্বাইয়ের কাস্টিং এজেন্সির মাধ্যমে দীর্ঘ অডিশন শেষে শুভ যুক্ত হয়েছেন নতুন কাজ 'সিটি'-তে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও কলকাতার মিউজিক্যাল কালচার নিয়ে এই কাজটির জন্য তিনি বেশ আশাবাদী।