
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যৌথভাবে হামলা শুরু করে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায় ইরান। যুদ্ধের একদিন না যেতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার (১ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ তাসনিম ও ফার্স সংবাদ সংস্থা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
খামেনির মৃত্যুতে ইরানের নেতৃত্ব যাদের কাঁধে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইরান। তার মৃত্যুর পর একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে, এ সংকটকালীন সময়ে দেশটিকে কারা নেতৃত্ব দেবেন?
ইরান জানিয়েছে, দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া তদারক করবেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং একজন আইন বিশেষজ্ঞ।
সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আইন বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি পরিষদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রের সব নেতৃত্বমূলক দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
‘মুক্তির সময় এসে গেছে’, ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দিয়ে রেজা পাহলভি
ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানের জন্য ডনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দিয়েছেন রেজা শাহ পাহলভি। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত এই নেতা বলেছেন, ইরানের নাগরিকরা দীর্ঘদিন ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে গেছে। এবার মুক্তির সময়।
রেজা শাহ পাহলভি ইরানের শেষ রাজার ছেলে। ইরানে রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত। এক্সে এক পোস্টে এই নেতা ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দেন। পাহলভি লেখেন, ‘সাহসী ইরানি জনগণ স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বড় মূল্য দিয়েছে। তাদের ত্যাগ বৃথা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, দেশের ভেতরে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী এবং জনগণ একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ চায়।
ইরানের আরও ৩০ জায়গায় ইসরাইলের হামলা
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের আরও ৩০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এবারের হামলার স্থান ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চল। এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী জানায়, ‘সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের নির্দেশনায় বিমানবাহিনীর ডজনখানেক যুদ্ধবিমান ‘অল্প কিছুক্ষণ’ আগে আরেক দফা হামলা সম্পন্ন করেছে। এসব হামলায় ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’
ইসরাইল আরও জানিয়েছে, ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, সামরিক সদর দফতর এবং অন্যান্য ‘শাসনব্যবস্থার লক্ষ্যবস্তু’র ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের ওপর ইসরাইলের এই হামলা শুরু হয়েছে গতকাল ভোর রাতে। গতকাল পর্যন্ত পাঁচশর অধিক স্থানে হামলা করার দাবি করেছিল ইসরাইল। এরমধ্যে একটি হামলা হয়েছে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এতে পঞ্চাশের অধিক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
খামেনিকে কোথায় হত্যা করা হয়?
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছিল সংবাদমাধ্যম বিবিসি। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে খামেনিকে তার কার্যালয়েই হত্যা করা হয়েছে। ওই সময় তিনি ‘তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনরত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় একইসঙ্গে নিহত হয়েছেন খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও। সংবাদমাধ্যম ফার্স সংবাদ সংস্থার বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে তাদের মৃত্যুর এ তথ্য জানানো হয়।
খামেনিকে হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) ফার্স সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
এদিকে বিধ্বংসী অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী সামরিক অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে’।