News update
  • Sri Lanka urges Pakistan to reconsider India match     |     
  • Centre of World Cup storm Mustafizur lands PSL deal with Lahore     |     
  • BNP and Jamaat election camps vandalized in Gazipur     |     
  • Dhaka requests UN rights office investigation into Hadi murder     |     
  • Bangladesh establishes formal diplomatic ties with Grenada     |     

আল্লাহর প্রতি আস্থা, কেয়ারটেকার সরকার পূনস্থাপন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান, প্রতিশোধ পরিহার বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান দিক

রাজনীতি 2026-02-07, 1:23am

image-358318-1770376949-0cfd357f3032a89fa49daa159f6662a11770406301.jpg

BNP chairman Tarique Rahman announcing the party manifesto on Friday at Sonargaon Hotel



বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন ৪৭ বছর আগে বিএনপি প্রতিষ্ঠা পর থেকে এদল কখনো লক্ষ্যহারা হয়নি। স্বাধীনতার পর দেশ তলাবিহীন ঝুরিতে পরিনত হয়েছিল। শহীদ জিয়া দেশকে স্থিতিশীল করে উন্নয়নের ধারার সূচনা করেন। বেগম খালেদা জিয়া দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দেন। তারেক বলেন, এবার দেশ পূনরগঠনের পালা। 

তিনি  বলেন ৩১ দফা ও জুলাই সনদ অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। জুলাই সনদে প্রস্তাবিত সংস্কারের অধিকাংশই ৩১ দফায় ছিল। ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না চাইলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিরপেক্ষ ভাবে সংরক্ষণ করার গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, বিএনপি একমাত্র দল যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করতে পারে।

সোনারগাঁও হোটেলে এক জনাকিরণ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান তার দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। বিএনপি ও অন্যান্য দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ঢাকা অবস্থিত বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের সদস্যগণ, সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মিগণ এতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার প্রসংগে তিনি বলে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস যা আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান থেকে তুলে দিয়েছে তা পুনস্থাপন করা হবে। সাথে সাথে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কেয়ারটেকার সরকার পূনপ্রতিষ্ঠিত করা হবে।

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। ৭০ অনুচ্ছেদ ধীরে ধীরে তুলে দেয়া হবে।

সকল শ্রেণী পেশার লোকদের দেশ গড়ার কাজে অন্তর্ভুক্ত করতে উচচ কক্ষের কথা বলছে বিএনপি। 

সুশাসনের জন্য দূর্নীতির বিস্তার রোধ করতে হবে। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে দেশ দূর্নীতিগ্রসত পায়। পাঁচ বছরের কঠোর শাসনের পর খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে দেশকে দূর্নীতিমুক্ত রেখে যান।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গুরুত্বের ব্যাপারে বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নিজে এবং তার পরিবার বিচার বিভাগের রাজনৈতিকরণের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সুশাসনের জন্য বিএনপি ন্যায়পাল ব্যবস্থা চালু করবে।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন তার দল প্রতিশোধে বিশ্বাস করেনা কারণ তা শান্তি আনতে পারেনা। 

সমাজে বৈষম্য দূরিকরণের জন্য মেধা ভিত্তিক সুযোগ প্রদানের কথা বলেন। 

তিনি বলেন স্থানীয়ভাবে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হলে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সকল সমস্যার সমাধানের জন্য ঢাকা আসতে হবেনা।

বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে থাকবে ফ্যামিলি কার্ড যা শুধু মহিলারা পাবে। তার মাধ্যমে মাসে ২৫০০ টাকা বা সম মূল্যের খাদ্য সামগ্রি পাঠানো হবে। থাকবে ফার্মার্চ কার্ড। এসব সাপোর্ট ৫ বছর চালিয়ে যেতে পারলে তারা এক যায়গায় এসে দাঁড়াবে। মোবাইলে তাদের অর্থনৈতিক কাজে সহায়তার জন্য এপ দেয়া হবে। 

পিতা মাতার ভরণ পোষণ আইন কার্যকর করা হবে। রাষ্ট্র, বঞ্চিত পিতামাতার পাশে দাঁড়াবে। নারীর ক্ষমতায়ন করা হবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভাবে। গার্মেন্টসের ৭০ ভাগ কর্মি নারী। আমরা অন্যান্য শিল্পে নারীদের প্রমোট করব। ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষিলোন সুদসহ মওকুফ করা হবে। ২০,০০০ কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে সেচের উন্নয়ন করা হবে। বন্ধ বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরায় চালু হবে।

জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলা করতে উপযোগী গাছ রোপনের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপন করা হবে। 

কৃষক ও বাজারের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস করে কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের পদক্ষেপ নেয়া হবে। হীমাগার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করে ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তারেক রহমান বলেন দেশে ২৭ লক্ষ বেকার। ২০৪০ নাগাদ বেকারত্ব দূর করতে হবে। আগামী ১০ বছরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কি কি দক্ষতার চাহিদা হবে তার ভিত্তিতে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলো শিক্ষা কার্যক্রম ঢেলে সাজানো হবে। শিক্ষার জন্য বাজেট বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ইউনিফর্ম চালু করা হবে। 

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রোগ প্রতিরোধের উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হবে। সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা গড়ে তুলে এ খাতে পারিবারিক ব্যয় হ্রাসের চেষ্টা করা হবে।

জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুগোপযোগী, স্বয়ংসম্পূর্ণ, ও চতুরমাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ সক্ষমতা নিশ্চিত করা হবে। সদস্যদের মধ্যে ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওয়ান রাংক ওয়ান পেনশন নীতি প্রণয়ন করা হবে।

পররাষ্ট্র নীতির মূল দর্শন- সবার আগে বাংলাদেশ। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণ সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে। 

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পূর্ণ অধিকারসহ মায়ানমারে নিরাপদ স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বিএনপি বদ্ধপরিকর। 

আলোচনার মাধ্যমে পদ্মা, তিস্তা এবং বাংলাদেশের সকল আন্তসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিসযা নিশ্চিত করা হবে।

কর্মরত নারীদের ৬ মাসের প্রসূতি ছুটি বেতন সহ কার্যকর করা হবে। 

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রনোদনা দেয়া হবে।

২৫ কোটি গাছ রোপনের পাশাপাশি কার্বন ট্রেডিং আয় বর্তমানের কয়েক মিলিয়ন ডলার থেকে এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে।

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন, অলিগারক শ্রেণীর বিলুপ্তি, মধ্যবিত্ত শ্রেনীর বিকাশ ও ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে অর্থনৈতিক লক্ষ্য। হুট করে নীতি পরিবর্তন করা হবেনা, যেন ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করতে হবে। 

এসএমই খাতের উন্নয়ন, শিল্পে টার্গেটেড সাপোর্ট, বন্ধ কল কারখানা চালু, রপ্তানিমুখি শিল্পকে বন্ডেড সুবিধা দেয়া বিএনপির লক্ষ্য। সেবাখাত সঠিক ভাবে গড়ে তুললে উন্নয়নের সাথে কর্মসংস্থান বাড়বে।

বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নের লক্ষ্য হবে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়ন যোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার পদক্ষেপ জোরদার করা হবে।

রেলের মাধ্যমে সহজলভ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

কন্টেন্ট তৈরী ও রপ্তানি বৃদ্ধি করার পদক্ষেপ  ফ্রি ইন্টারনেটের ব্যবস্থা ও বিদেশ থেকে অর্জিত মুদ্রা দেশে নিয়ে আসা সহজতর করার জন্য পে-পালের অফিস বাংলাদেশে খুলতে দেয়া হবে।

মেয়েদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রেভেনিউ ব্যবস্থা মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

চট্টগ্রামকে বানিজ্যিক রাজধানী হিসেবে উন্নয়ন ও উত্তর অঞ্চলে কৃষিশিলপ স্থাপন উৎসাহিত করা হবে।

 ব্লু-ইকোনমি গড়ে তোলার জন্য উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হবে।

পর্যটন উন্নয়নের জন্য বিভিন্নমুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজজিন এবং অন্যান্য উপাসনালয়ের ধর্মগুরুদের সম্মানি প্রদান করা হবে।

হজের খরচ কমানো হবে একটা তৃতীয় এয়ারলাইনের স্থান করে দিয়ে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা হবে। সাথে সাথে শিল্প সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য কর্মসূচি নেয়া হবে। নতুন কুঁড়ির আরো উন্নয়ন করা হবে। কেরাত প্রতিযোগিতা তার সাথে যোগ করা হবে।

মূল্যবোধের উন্নয়নের জন্য ডকুমেন্টারি তৈরী ও অন্যান্য কার্যক্রম হাতে নেয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, আমি এতক্ষণ যা বললাম তার কোন কিছুই করা সম্ভব হবেনা যদিনা দূর্নীতি দমন, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত করা যায়।

সূচনা বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন ১৫ বছর সোচ্চার ছিলাম তাই এখন অবাধ নির্বাচন পেতে চলেছি। তারেক নতুন বার্তা নিয়ে এসেছেন। তারুণ্যের জয় যাত্রা শুরু হবে।

অতীতে দেখেছি প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ি কিন্ত বাস্তবায়ন উল্টো। বিএনপির এখানে বাগাড়মবর নেই।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সচিব রুহুল কবির রিজভির সঞ্চালনায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পার্টির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান।