News update
  • Bangladesh Gets Record $32.8bn Remittance in 2025 Year     |     
  • Ctg Port’s historic milestone in 2025 container handling, revenue     |     
  • NBR Probes Bank Records of 100 Exporters Over Bond Abuse     |     
  • Hadi murder case: Sanjay, Faisal give ‘confessional’ statements     |     
  • Islami Bank organizes orientation for 1000 Trainee Assistant officers     |     

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে মানুষের ঢল

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক রাজনীতি 2026-01-02, 5:56pm

rtewrwerwe-71111d2b6fa847a3ed99495f0d8590721767354984.jpg




সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষের ঢল নেমেছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারন মানুষ খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসছেন। 

সরেজমিন দেখা গেছে, জিয়া উদ্যানের মোড় থেকেই জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদার কবরমুখী মানুষের ভিড়। অনেকেই ফুল নিয়ে এসেছেন খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে। উদ্যানসংলগ্ন সংসদ ভবনের সামনের রাস্তা ও বেইলি ব্রিজ থেকে কবর পর্যন্ত নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। 

এ ছাড়া সাধারন মানুষের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও মাইক্রোবাস নিয়েও নেতাকর্মীদের আসতে দেখা গেছে। তারা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যা দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, এদিন সকালে খালেদা জিয়ার নাতনি ও তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা কবর জিয়ারত করেছেন। তখন কিছু সময়ের জন্য জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকলেও পরে উন্মুক্ত করা হয়।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ দেশজুড়ে তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। আজ দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। বেগম জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় জুমার নামাজের পর সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়। 

আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।

এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো। 

সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন বিকেল তিনটায় সংসদ ভবনের মাঠ ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের গন্যমান্য ব্যক্তিসহ লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।

এরপর বিশেষ একটি বাহনে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পর জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়।