News update
  • Vandalism at Chattogram Airport for food after flight cancellations     |     
  • Nomination of Nagorik Oikya’s Manna, six others scrapped in Bogura     |     
  • Bangladesh Gets Record $32.8bn Remittance in 2025 Year     |     
  • Ctg Port’s historic milestone in 2025 container handling, revenue     |     
  • NBR Probes Bank Records of 100 Exporters Over Bond Abuse     |     

খালেদা জিয়ার ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্ম ও শৈশব নিয়ে যা জানা যায়

বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা বিবিধ 2026-01-02, 8:40pm

eterwer34543r-03e4fc92af2f24114e8438a191475a311767364812.jpg

খালেদা জিয়া - ফাইল ছবি



"খালেদা জিয়ার জন্ম আমাদের বাড়ির উল্টোদিকের বাড়িতে। দেশভাগের পরে যখন (সম্পত্তি) বিনিময় হয়, তখন অমরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এই বাড়িতে আসেন এবং খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) চলে যান"।

কথাগুলো বলছিলেন জলপাইগুড়ি শহরের নয়াবস্তি এলাকার বাসিন্দা ও জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব ভোলা মন্ডল।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার জন্মস্থানের বিষয়টি আবার আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি কোথায় জন্মেছিলেন– বাংলাদেশের দিনাজপুরে নাকি ভারতের জলপাইগুড়ি, এ নিয়ে নানা রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

তিনি মারা যাওয়ার পরে বিএনপির তরফে তার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনীতেও লেখা হয় যে মিসেস জিয়া জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

তবে মিসেস জিয়ার জীবন নিয়ে লেখা প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ তার বই 'বেগম খালেদা জিয়া – হার লাইফ, হার স্টোরি'-তে উল্লেখ করেছেন যে খালেদা জিয়া দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

যদিও ওই বইতেই লেখা আছে যে তারা বাবা ইস্কান্দর মজুমদার ক্লাস এইট পাশ করে জলপাইগুড়িতে বোন এবং দুলাভাইয়ের কাছে চলে যান। সেখানেই তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন এবং একটি চা বাগানে চাকরি শুরু করেন।

পরে চা ব্যবসায় যোগ দেন তিনি। তার বিয়ে হয় ১৯৩৭ সালে, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের জলপাইগুড়িতেই।

এই শহরটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলীয় জলপাইগুড়ি জেলার সদর শহর। সেই শহরের কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন যে জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি অঞ্চলে তার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার বসবাস করতেন এবং সেখানেই জন্ম নেন খালেদা জিয়া।

তবে এ নিয়ে ওই শহরেও নানা সংশয় এবং বিভিন্ন মতামত উঠে এসেছে। মিসেস জিয়ার জন্মস্থান নিয়ে একটি মাত্র লিখিত স্মৃতিকথা বিবিসি বাংলা খুঁজে পেয়েছে, যেখানে খালেদা জিয়ার জন্ম নিয়ে কিছু তথ্য আছে। তবে সেই তথ্য নিয়েও মতপার্থক্য আছে গবেষকদের মধ্যে।

এর বাইরে খালেদা জিয়ার বাবার তৎকালীন কর্মস্থল থেকেও কিছু তথ্য পাওয়া যা।

বিভিন্ন মতামত ও যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে বিবিসি বাংলা।

বিএনপির দেওয়া জীবনচিত্র

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মিডিয়া সেল খালেদা জিয়ার যে সংক্ষিপ্ত জীবনচিত্র সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছে, তার বয়ানটা এরকম :

"আদি পিতৃ-ভিটা ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ি। বাবা জনাব ইস্কান্দর মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ইস্কান্দর মজুমদার ১৯১৯ সালে ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি যান। বোনের বাসায় থেকে মেট্রিক পাস করেন ও পরে চা ব্যবসায়ে জড়িত হন।"

"১৯৩৭ সালে জলপাইগুড়িতে বিয়ে করেন। জল্পাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বসবাস করেন। ১৯৮৪ সালের ১৫ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন। মা বেগম তৈয়বা মজুমদার ছিলেন একান্তভাবে একজন গৃহিণী।"

খালেদা জিয়ার জন্ম জলপাইগুড়ি শহরের যে নয়া বস্তি এলাকায় বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেখানকার কয়েকজন বাসিন্দা মিসেস জিয়ার বাবা ইস্কান্দর মজুমদারের বাসভবন বলে একটি বাড়ি চিহ্নিত করেছেন। সেই বাড়িটির বর্তমান মালিক অরিন্দম চক্রবর্তী।

তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি, কিন্তু মিসেস জিয়ার প্রতিবেশী ছিলেন তারা, এমন দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব ভোলা মন্ডল।

তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাদের বাড়ির ঠিক সামনেই বাস করতেন ইস্কান্দর মজুমদার।

"খালেদা জিয়ার জন্ম আমাদের বাড়ির উল্টোদিকের জমিতে। দেশভাগের পরে যখন (সম্পত্তি) বিনিময় হয়, তখন অমরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এই বাড়িতে আসেন এবং খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) চলে যান," গণমাধ্যমে বলেছেন মি. মন্ডল।

মি. মন্ডল এ দাবিও করেছেন যে তার মা খালেদা জিয়ার শৈশবে তাকে কোলে নিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমে একই রকম দাবি করেছেন এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা, যে তাদের পাড়াতেই জন্মিয়েছিলেন খালেদা খানম, জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ের পরে যার নাম হয় খালেদা জিয়া।

জলপাইগুড়ি শহরের নয়াবস্তি অঞ্চলের ওই বাসিন্দারা বলছেন যে তাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের মানুষদের, অর্থাৎ বাবা-মায়েদের সঙ্গে মিসেস জিয়ার পরিবারের যোগাযোগ ছিল।

তবে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রমাণ তাদের কারও কাছে নেই।

কে ছিলেন ইস্কান্দর মজুমদার?

বিএনপি খালেদা জিয়ার যে জীবনচিত্র দিয়েছে, সেখানেই লেখা আছে যে তার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার জলপাইগুড়ি শহরে গিয়ে চা ব্যবসায় জড়িত হন।

বিবিসি বাংলা মাত্র দুটি তথ্য খুঁজে পেয়েছে, যেখানে মিসেস জিয়ার বাবার বসতবাড়ি এবং কর্মস্থল নিয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এরমধ্যে একটি হলো জলপাইগুড়ি শহরের ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত একটি স্মৃতিকথা আর অন্যটি মি. মজুমদার জলপাইগুড়িতে যে সংস্থায় কাজ করতেন, সেখানকার পুরোনো একটি হিসাবের খাতা।

জলপাইগুড়ির পুরোনো বাসিন্দা ও নামজাদা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাখ্যা প্রসাদ চক্রবর্ত্তীর লেখা ওই স্মৃতিকথায় অবশ্য ইস্কান্দর মজুমদারের নাম 'ইস্কিন্দার মিঞা' এবং ওই চা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাটি – 'দাস অ্যান্ড কোং' এর হিসাবের খাতায় তার নাম 'মুহাম্মদ ইস্কান্দর' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যে মি. ভোলা মণ্ডলের কথা একটু আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, তার পরিবার যে 'ইস্কিন্দার মিঞা'র প্রতিবেশী ছিলেন, সেই তথ্য কামাখ্যা প্রসাদ চক্রবর্ত্তীর বইতে উল্লেখ আছে।

'সেকালের জলপাইগুড়ি শহর এবং সামাজিক জীবনের কিছু কথা' শীর্ষক ওই স্মৃতিকথায় মি. চক্রবর্ত্তী লিখেছেন, "ইস্কিন্দার মিঞার বাড়ির গলিতে থাকতেন হেমচন্দ্র মন্ডল। উনি খৃষ্ট ধর্মাবলম্বী ছিলেন। হেমচন্দ্র মন্ডল শহরের প্রাচীন বাসিন্দা। জলপাইগুড়ি শহরের Collectorate অফিস যেতে পুরোনো সার্কিট হাউস ছাড়িয়ে একটি Church আছে। সেন্টমাইকেল অ্যানজেল চার্চ্চ। চার্চ্চটি নির্ম্মিত হয় ১৮৯৭ সালে। জেলার ইংরাজ চা বাগানের ম্যানেজারদের উদ্যোগে।"

(বইটিতে ব্যবহৃত বানান অপরিবর্তিত রাখা হলো)

ওই চার্চের প্রথম ধর্মযাজক ছিলেন হেমচন্দ্র মন্ডল। তার মৃত্যুর পরে প্রথম পুত্র নবকুমার মন্ডল, তিনি মারা যাওয়ার পরে তার ভাই অজিত কুমার মন্ডল ওই চার্চের ধর্মযাজক হন বলে লিখেছিলেন কামাখ্যা প্রসাদ চক্রবর্ত্তী।

অজিত কুমার মণ্ডলের পুত্র ভোলা মন্ডল ওই চার্চের ধর্মযাজক পদে বহাল আছেন বলে তার বইতে লিখে গেছেন কামাখ্যা প্রসাদ চক্রবর্ত্তী।

ওই বইতেই লেখা আছে, "রেসকোর্স যাবার রাস্তায় মিউনিসপ্যালিটি এবং পরবর্ত্তীতে নির্মিত ইলেকট্রিক সাপ্লাই কো: ছাড়িয়ে দক্ষিণ দিকে রাস্তার ধারে থাকতেন আলিমুদ্দিন মিঞা।আলিমুদ্দিন মিঞার বাড়ির পরেই ছিল ইস্কিন্দার মিঞার বাড়ী। ওই বাড়ী রজত মুখার্জ্জির বাবা খরিদ করেন। বর্ত্তমানে রজত বাবু বাড়ীটি নূতন ভাবে নির্ম্মান করে বসবাস করছেন," লিখে গেছেন কামাখ্যা প্রসাদ চক্রবর্ত্তী।

তবে স্থানীয় গণমাধ্যম 'খালেদা জিয়ার জন্মস্থান' বলে যে বাড়িটি চিহ্নিত করেছে, সেই বাড়ির বর্তমান মালিক অরিন্দম চক্রবর্তী।

ওই বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, জলপাইগুড়ি শহরেরই বাসিন্দা আনন্দ গোপাল ঘোষ।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ওই বইটির ভূমিকা লিখতে গিয়ে আমি খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কিন্দর মিঞার কাজকর্ম, খালেদা জিয়ার জন্মসংক্রান্ত তথ্য পাই। 'মজুমদার'টা হচ্ছে একটি উপাধি – মুসলমানদের যেমন থাকত, তেমনই হিন্দুদের মধ্যেও এই উপাধি পাওয়া যায়। কামাখ্যাবাবুর কাছ থেকে খালেদা জিয়ার পরিবারের আরও অনেক ইতিহাস জানতে পারি। এর বাইরে আর কোনো তথ্য প্রমাণ আছে বলে আমার জানা নেই। যদি কোনো তথ্য থেকেও থাকে, তা ১৯৬৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকতে পারে।"

কী কাজ করতেন ইস্কান্দর মজুমদার?

ইতিহাসের অধ্যাপক আনন্দ গোপাল ঘোষ জানাচ্ছিলেন যে খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার চায়ের ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন 'দাস অ্যান্ড কোং' নামের একটি সংস্থায়।

ওই সংস্থার তৎকালীন মালিক মনোরঞ্জন দাশগুপ্তের পুত্র নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত অবশ্য বিবিসি বাংলাকে বলছেন যে তাদের ঠিক চায়ের ব্যবসা ছিল না, তাদের সংস্থাটি ব্যাংকিং এবং চা বাগানের শেয়ার কেনাবেচার কাজে জড়িত ছিল।

"সেই সময়ে চা বাগানের শেয়ারের বিপুল চাহিদা ছিল। একদিকে রংপুর, নীলফামারী – অন্যদিকে বিহারের কাটিহার ইত্যাদি জায়গা পর্যন্ত চা বাগানের শেয়ার কেনা-বেচা চলত আমার বাবার কোম্পানির মাধ্যমে। বাবার কাছেই শোনা যে খালেদা জিয়ার বাবা চা বাগানের শেয়ার কেনাবেচার কাজে যুক্ত ছিলেন, " বলছিলেন নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত।

তিনি বলছিলেন, "পুরোনো আমলের অনেকগুলো লেজার খাতা আমার কাছে আছে, যার একটির মধ্যে আমি খালেদা জিয়ার বাবার নামের উল্লেখ পেয়েছি। সেটি ১৯৫৪ সালের। কোম্পানির কাছ থেকে কত টাকা অ্যাডভান্স নিলেন, কত টাকা ফেরত দিলেন, সেই হিসাব আছে। ওই খাতায় অবশ্য তার নাম মুহাম্মদ ইস্কান্দর হিসেবে উল্লেখ আছে। তবে ৫৪ সালের পরে তার নামে আর কোনো লেজার এন্ট্রি আমি পাইনি। অর্থাৎ ধরে নেওয়া যেতে পারে তার পরে তিনি আর বাবার কোম্পানিতে ছিলেন না।"

"যতদূর জানা যায় যে বৃহত্তর নোয়াখালির ফেনি অঞ্চলের মানুষ ছিলেন ইস্কিন্দার মিঞা। জলপাইগুড়িতে সেই সময়ে অনেক সম্ভ্রান্ত অভিবাসী মুসলমান পরিবার বসবাস করতেন। আবার আমাদের মতো অভিবাসী হিন্দু পরিবারও এখানে বসতি গড়েছিল। এই শহরই ছিল তখনকার চা ব্যবসায়ের প্রাণকেন্দ্র। চায়ের ব্রোকারের কাজ করতেন ইস্কিন্দার মিঞা। সেই ব্রোকারি কিন্তু এখনকার পরিভাষায় দালালি নয়, সেটা ছিল অত্যন্ত সম্মানীয় এবং অর্থকরী পেশা," বলছিলেন ইতিহাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনন্দ গোপাল ঘোষ।

খালেদা জিয়া কি জলপাইগুড়ির স্কুলে পড়েছেন?

অধ্যাপক আনন্দ গোপাল ঘোষ জানাচ্ছিলেন যে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরেও খালেদা জিয়ার পরিবার জলপাইগুড়িতেই থাকতেন।

তবে ১৯৫০ সালে জলপাইগুড়িতে একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হওয়ার পরে তারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে যান।

"১৯৫০ সালে আমাদের এখানে একটা ছোট দাঙ্গা হয় – তিনজন গরীব মুসলমান মারা যান। সেই সময়ে কালেক্টর সঙ্গে সঙ্গে কারফিউ জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। ওই বছরেই নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি অনুযায়ী ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে নাগরিক বিনিময় শুরু হয়। সম্ভবত তখনই ইস্কান্দর মজুমদারেরা ভারত ছেড়ে চলে যান,"

"কামাখ্যাবাবুর কাছেই এটাও জেনেছিলাম যে তিনি সাবেরিয়া প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই স্কুলটা এখনো আছে," বলছিলেন অধ্যাপক আনন্দ গোপাল ঘোষ।

আবার এরকম দাবিও করা হচ্ছে যে মিসেস জিয়া 'সদর গার্লস প্রাইমারি স্কুলে' পড়েছেন।

তবে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা ও গবেষক গৌতম গুহরায়ের কথায়, "খালেদা জিয়া এই শহরে জন্মিয়েছিলেন, এখানে স্কুলে পড়েছেন বলে যে সব কথা শোনা যায়, তার কোনো তথ্য প্রমাণ আমি অনেক চেষ্টা করেও খুঁজে পাইনি। আগে আমরা কখনও শুনিনি যে তার সঙ্গে এই শহরের কোনো সম্পর্ক ছিল। হঠাৎই এই কথাগুলো জানতে পারি আমরা।"

"একবার হাসান আজিজুল হক জলপাইগুড়িতে এসেছিলেন, সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন যুব নেতাও ছিলেন। আমি তাদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে জানাই যে খালেদা জিয়া জলপাইগুড়িতে জন্মিয়েছিলেন এবং কিছুদিন এখানকার স্কুলে পড়েছিলেন। ওরা খুবই বিস্মিত হন এটা শুনে। সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঢাকায় যোগাযোগ করেন। তারপরে আমাদের জানান যে জলপাইগুড়িতে খালেদা জিয়ার জন্ম – এই তথ্য সঠিক নয়," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মি. গুহরায়।

তিনি বলছিলেন, একবার ঢাকায় বিএনপির এক সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলার সময়ে বিষয়টি আবার উত্থাপন করলে তিনিও একই কথা বলেছিলেন।

তিনি বলছিলেন, "এরপরে আমরা দেশে ফিরে এসে যে স্কুলে তিনি পড়তেন বলে বলা হচ্ছে, সেখানেও খোঁজ করি। কোনো নথি কিন্তু সেখানকার শিক্ষকরা আমাদের দেখাতে পারেননি। অনেকে বলেন যে ১৯৬৮-র বন্যায় নথি নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু আমরা তার আগেকার অন্য নথি কিন্তু পেয়েছি, খালেদা জিয়ার সংক্রান্ত কোনো নথি পাইনি।"

মি. গুহরায় এই প্রশ্নও তুলছিলেন, যে বয়সে খালেদা জিয়ার পরিবার জলপাইগুড়ি থেকে চলে গিয়েছিলেন, তখন তার বয়স ছিল চার কি পাঁচ। সে যুগে এত কম বয়সে স্কুলে ভর্তিই করা হত না।

"তাহলে তিনি কীভাবে জলপাইগুড়ির স্কুলে পড়াশোনা করলেন?" প্রশ্ন মি. গুহরায়ের।

অন্যদিকে 'দাস অ্যান্ড কোং' হিসাবের খাতা যদি দেখা যায়, সেখানে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত মুহাম্মদ ইস্কান্দরের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে, তিনি যদি তখনও পর্যন্ত জলপাইগুড়িতে কর্মসূত্রে থেকেও থাকেন, তার পরিবারের অন্য সদস্যরা হয়তো তখন আর সেখানে ছিলেন না।

বিএনপি খালেদা জিয়ার যে জীবন চিত্র দিয়েছে, সেখানে অবশ্য তার শিক্ষার বিষয়ে লেখা হয়েছে, "খালেদা জিয়ার স্কুলজীবন শুরু হয় পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশন স্কুলে। এরপর দিনাজপুর গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। পরবর্তীতে পড়াশুনা করেন সুরেন্দ্রনাথ কলেজে।"