News update
  • Triple Climate Threats Endanger Half of Children     |     
  • Returned from India as an instant protest: Adviser Zahed     |     
  • ECNEC clears five development projects worth Tk 7,003 crore     |     
  • As world awaits Iran-US accord details, UN wants Hormuz aid corridor     |     
  • World Cup Preparation Scores a Goal against the Environment     |     

একটি সুন্দর নির্বাচনের জন্য

মতামত 2026-02-11, 1:20am

vote-casting-b140705661f51852e43153967dec5bed1770751214.jpeg

Vote casting. Photo collected.



মোস্তফা কামাল মজুমদার 

বৃহস্পতিবার বহু প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন। গণতন্ত্রের যাত্রা আবার নতুন করে শুরু করার জন্য। মানুষের অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠা করে সাম্য ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দিক উন্মোচনের স্বর্ণদুয়ার খুলতে। উন্নয়নের সকল সৃজনশীলতাকে শৃংখলমুক্ত করতে। বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করে মানুষের মুখে হাসি ফৌটাতে। দুনিয়ার মাঝে জাতি হিসেবে আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর এসেছে এ নির্বাচন। বিগত চারটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। বিশেষ করে তিন কোটির বেশী নতুন ভোটার। বারবার তারা বঞ্চিত হয়েছে ভোটাধিকার থেকে। ভোট কেন্দ্রে যাবার আগেই তাদের ভোট দেয়া হয়ে যায়। ভোট দিতে পারেনি বয়স্করাও। 

২০০৮ সালের ম্যানেজড নির্বাচনের পর, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনের ১৫৪টিতে ভোট ছাড়াই একজন করে প্রার্থী নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। বাদবাকি ১৪৬ আসনে দায়সারা গোছের ভোটের আয়োজন করা হয়। এ নির্বাচন ভোটার বিহীন নির্বাচন হিসেবে পরিচিত। বলা হয়েছিল এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। আবার ভোটের আয়োজন হবে। কিন্ত তা আর হয়নি। 

পরবর্তি নির্বাচনতো ভোটের আগের রাতে হয়ে গিয়েছিল। রাজনৈতিক নেতারা এটাকে নিশিরাতের ভোট বলেন। জানা যায় একজন উর্ধতন পুলিশ কর্মর্তার মগজ থেকে এ কুবুদ্ধি আসে। ঠিক হয় জেতা নিশ্চিত করার জন্য ভোটের দিনের আগের রাতে ক্ষমতাসিন আওয়ামী লীগের পক্ষে শতকতা.৫০ ভাগ ব্যালট সিল মেরে বাক্সে ভরে রাখা হবে। ভোটের দিন যে কয়টা ভোটই পক্ষে পরুকনা কেন সরকারি দলের জয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা। কিন্তু আওয়ামী লীগের কর্মিরা ৬০-৭০ এমনকি কোথাও কোথাও ৮০ ভাগ পর্যন্ত ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে রাখে।

সরকারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে প্রায় সকল বিরোধী দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য এগিয়ে এসেছিল। এমন কি ড্ঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিরোধী দলসমূহ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সংলাপেও বসেছিল। কিন্তু যারা ইচ্ছা মাফিক নির্বাচন করার জন্য কেয়ারটেকার সরকারের বিধান সংবিধান থেকে তুলে দিয়েছিল তাদের আশ্বাস বিশ্বাসযোগ্য নয়, এটাই তারা প্রমান করল। 

তখন থেকে বিরোধী বিএনপি ও তার সহযোগী দলগুলো ঐ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না দিয়ে সরকার হটাবার আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয়। বিরোধী দলের বয়কটের মাঝে ২০২৪ সালে যে নির্বাচন হয় তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলক দেখাবার জন্য সরকারি দল তার কর্মিদের যথেচ্ছ প্রতিযোগিতা করার অনুমতি দেয়। এটা “আমি আর ডামি নির্বাচন” নামে পরিচিতি লাভ করেছে। অর্থাৎ ২০০১ সালের পর থেকে দেশে আর কোন নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি, যদিও কেউ কেউ ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ছাড় দিতে চান।

এবারে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তার ফলাফল নিয়ে অনেক বিশ্লেষণ ধর্মি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় আসাধু পদ্ধতি অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু কেউ বলেনি তা আগের চারটি নির্বাচনের মত লোক দেখানো কারসাজি। 

এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সফল জুলাই ২০২৪ অভ্যূত্থানের দেড় বছর পর। যার মাধ্যমে প্রায় ১৬ বছর ধরে জেঁকে বসা ফ্যাসিষ্ট শাসনের অবসান হয়েছে। দূর্নীতি, টাকা পাচার, ব্যাঙ্ক ও শেয়ার বাজার লূট, রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা বন্টনে বৈষম্য, গুম-খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ ও গণমাধ্যমগুলোকে আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিনত করে দেশে একটা অঘোষিত একদলীয় শাসন চালু করা হয়েছিল। 

এসব অন্যায় থেকে দেশকে মুক্ত করে পুনর্গঠন করার অংগীকারে পরিনত হয়েছে এবারের নির্বাচন। দেড় হাজার তরুন-তরুনী স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী ও হেলমেট বাহিনীর বেপরোয়া গুলিবর্ষণের মুখে অকাতরে প্রান দিয়েছে; অন্তত ২০ হাজার লোক আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে বৈষম্যের অবসান ও গ্ণতন্ত্রের জন্য।

আসুন আমরা এ নির্বাচনকে সফল করে গণতন্ত্র কায়েমের সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে যাই। নির্বাচনকে কলুসিত করার যেকোন প্রয়াশ রুখে দাঁড়াই।