News update
  • PM Orders Study on Restoring Universal Stipends for Girls     |     
  • President urges KSA to make hajj more convenient for Bangladeshi pilgrims     |     
  • Second Teesta Bridge: Costly shortcut that heavy vehicles cannot take     |     
  • March in Stockholm for stronger climate action ahead of polls     |     
  • Dhaka ranks 18th in global air quality ranking Monday morning     |     

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে অংশীজন অন্তর্ভুক্তিতে সরকারের অনাগ্রহ নিয়ে উদ্বিগ্ন তামাক শিল্প

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ব্যবসায় 2025-12-14, 7:02pm

ewrrwer324-ac52728fafcd09718c0fa5206cffc2dd1765717347.jpg

বাম থেকে জেটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাউন্ট পল হলওয়ে, বিএটি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনীষা আব্রাহাম ও ফিলিপ মরিস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা-উর-রহমান মাহমুদ।



তামাক শিল্পের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনীর ক্ষেত্রে যথাযথ সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং অংশীজন-অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনা ছাড়াই অনুমোদনের চেষ্টা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তামাক শিল্পের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনী দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ, পণ্যের মান এবং সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

যৌথ বিবৃতিতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটি বাংলাদেশ), ফিলিপ মরিস বাংলাদেশ এবং জেটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর নেতৃবৃন্দ বলেন:

“আমরা সরকারের জনস্বাস্থ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতিকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি। তবে খসড়া অধ্যাদেশে প্রস্তাবিত কিছু ধারা বাস্তব প্রমাণভিত্তিক নয় এবং এগুলো প্রান্তিক জনগণের জীবিকা ঝুঁকির মুখে ফেলবে, ইতিমধ্যেই ব্যাপকতর রূপ লাভ করা অবৈধ সিগারেটের বাজারকে আরও ত্বরান্বিত করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি বাড়াবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করবে-যা বর্তমান সংকটাপন্ন তামাক শিল্পকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” 

“প্রস্তাবিত নেতিবাচক ধারাসমূহের মধ্যে একটি হলো সিগারেট তৈরির উপাদান এর উপর নিষেধাজ্ঞা, যা দেশের বর্তমান সিগারেট উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করবে। নিষিদ্ধের প্রস্তাবে থাকা উপাদানগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য অপরিহার্য এবং পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

“পাশাপাশি, ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য ধারা, যেমন সিগারেট বিক্রির ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা, যা বর্তমানে বিদ্যমান প্রায় ১৫ লাখ খুচরা বিক্রেতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য লাইসেন্স প্রাপ্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত খুচরা বিক্রেতাদের কাছে তামাকজাত পণ্যের বৈধ বিক্রয় কার্যক্রম ও খাত-সম্পর্কিত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার তামাক চাষির জীবিকাও বিঘ্নিত হবে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ন্যায্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং যথাযথ অংশীজন পরামর্শ অপরিহার্য।”

“এছাড়াও, প্রস্তাবিত ধোঁয়াবিহীন নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্যের নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্তবয়স্ক ভোক্তাদের জন্য সিগারেটের তুলনায় সম্ভাব্য কম ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্পের সুযোগ কেড়ে নেবে, যা তাদের ধূমপান থেকে সরে আসার পথকে আরও কঠিন করে তুলবে। এই পণ্যশ্রেণীর নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান অবৈধ বাজারকে আরও প্রসারিত করবে যেমনটি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো অন্যান্য দেশে দেখা গেছে। এই সকল অবৈধ পণ্য কোনো নিয়ন্ত্রণের আওতায় না থাকায় গুণগতমান মানসম্মত হবে না, যা ভোক্তাদের জন্য আরও ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে।”

“সামগ্রিকভাবে অংশীজন-অন্তর্ভুক্ত পরামর্শ ছাড়া এ প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস করা হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য উভয়ের জন্যই উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই উৎপাদক, কৃষক, প্রান্তিক খুচরা বিক্রেতা, হকার, প্রিন্টিং প্রেস এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামত বিবেচনায় নেওয়ার, যেন প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো থেকে উদ্ভূত নেতিবাচক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি এড়ানো যায়। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে আমরা সরকার ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রথম খসড়া প্রণয়নের সময় সরকার উৎপাদকসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে অংশীজন-অন্তর্ভুক্ত সংলাপ পরিচালনা করেছিল। এর ফলস্বরূপ একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর আইন প্রণীত হয়, যার ফলে ধূমপানের হার কমেছিল এবং অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় ছিল।

বর্তমান চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অংশীজনদের মতামত বিবেচনা ব্যতীত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া পুরো তামাক শিল্প এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয়কে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। কোভিড-১৯ প্রভাবিত বছর বাদ দিয়ে, তামাক খাত প্রতি বছর ১২–১৫% রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রদান করেছিল, কিন্তু ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ৪–৫%-এ।

তামাক শিল্প স্থানীয় সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এ শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪৪ লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করে, যাদের মধ্যে দেড় লক্ষ কৃষক এবং ১৫ লক্ষ খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন। পাশাপাশি খাতটি ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে, যার মধ্যে অন্যতম জেটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে একটি স্থানীয় তামাক কোম্পানির অধিগ্রহণ, যা গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক বিনিয়োগ।