
নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে নবম বেতন কমিশন। প্রস্তাবিত এই কাঠামোয় মোট ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কমিয়ে অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ১:৮, যা আগে ছিল ১:৯.৪।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থাকা সর্বনিম্ন বেতন বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ৭৮ হাজার টাকা থাকা সর্বোচ্চ বেতন বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন প্রায় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান জানিয়েছেন, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বছরে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
তিনি বলেন, গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বাস্তবতায় কমিশন অনলাইন ও অফলাইনে মোট ১৮৪টি সভা করেছে এবং ২ হাজার ৫৫২ জন অংশীজনের মতামত নিয়ে বাস্তবসম্মত এই সুপারিশ তৈরি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো এক নজরে
প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রথমবারের মতো সব সরকারি কর্মচারীর জন্য সরকারি ব্যয়ে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী সন্তানপ্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে (সর্বোচ্চ দুই সন্তান) ভাতা দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্যও সুখবর রয়েছে। প্রতিবেদনে পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং বেতন কাঠামোর সঙ্গে পেনশন সমন্বয়ের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ১৩তম গ্রেডে মূল বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ২৪ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
নবম পে স্কেল সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদন গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সরকার বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে গেজেট প্রকাশের পর এই পে স্কেল কার্যকর হবে।
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য ২০ গ্রেডের বাইরে একটি বিশেষ ধাপ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বেতন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশন গঠন প্রসঙ্গ
গত ২৭ জুলাই ২০২৫ সরকার ২৩ সদস্যের নবম বেতন কমিশন গঠন করে। ছয় মাসের সময়সীমা থাকলেও কমিশন নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন জমা দেয়। এর আগে সর্বশেষ অষ্টম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালে।
প্রতিবেদন গ্রহণকালে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এসব সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা। সে লক্ষ্যে শিগগিরই একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হবে।