News update
  • Kuakata Beach Ravaged by Sea Erosion     |     
  • Per capita public debt stands at Tk 1.29 lakh: Finance Minister     |     
  • PM urges collective efforts to ensure pollution-free rivers, liveable environment     |     
  • Relatives hold cremations without bodies for Nepal’s missing flood victims     |     
  • Dhaka ranks 13th among cities with worst air quality on Sunday     |     

সমুদ্রের ভাঙনে লন্ড ভন্ড কুয়াকাটা সৈকত

বিপর্যয় 2026-09-06, 11:01pm

sea-waves-hitting-the-kuakata-beach-as-the-sea-was-rough-due-to-inclement-weather-during-the-second-week-of-july-2026-118af199be87d0762b6f10050073558f1788714092.jpg

Sea waves hitting the Kuakata Beach as the Sea was rough due to inclement weather during the second week of July 2026.



পটুয়াখালী: বর্ষা এলেই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে দেখা দেয় তীব্র ভাঙন। সমুদ্রের অব্যাহত ভাঙনে একদিকে যেমন সংকুচিত হচ্ছে সৈকতের প্রস্থ, অন্যদিকে বিলীন হচ্ছে বনাঞ্চল, স্থাপনা ও বসতভিটা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও এতে স্থায়ী সমাধান মিলছে না। বরং কোনরকম গবেষণা ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে এসব জিও টিউব ব্যবহারে সৌন্দর্য হারাচ্ছে কুয়াকাটা সৈকত।

১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার। সে সময় লেম্বুরবন থেকে গঙ্গামতির পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকতের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ কিলোমিটার। সময়ের সঙ্গে পশ্চিমে তিন নদীর মোহনা থেকে পূর্বে রামনাবাদ মোহনা পর্যন্ত সৈকতের বিস

স্থানীয়দের দাবি, গত ৪০ থেকে ৫০ বছরে সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দিকে সৈকত। অব্যাহত ভাঙনে গত এক দশকে বিলীন হয়েছে নারিকেল বাগান,এলজিইডি'র ডাকবাংলো, ডিসি পার্কের একাংশ, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, ভূমি অফিসের গেস্ট হাউস, হোটেল মোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে হারিয়ে গেছে বহু মানুষের ঘরবাড়ি। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম এলেই সমুদ্র যেন লোকালয়ের দিকে আরও এগিয়ে আসে।

স্থানীয়রা জানান, একসময় কুয়াকাটা সৈকতে ছিল বড় বড় বালুর টেক ও বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। সমুদ্রের কাছে যেতে দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। এখন সেই সমুদ্র এসে পৌঁছেছে লোকালয়ের একেবারে কাছে। ফলে কুয়াকাটার অস্তিত্ব ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলেন, দূর দূরান্ত থেকে কুয়াকাটায় এসে সৈকতের বর্তমান চিত্র দেখে তারা হতাশ। সৈকত রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্হানীয় সাংবাদিক কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বালু ক্ষয়ের কারণে এ সময় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে যায়। এ বছরও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স, মসজিদ, মন্দির, মেরিন ড্রাইভসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। এসব স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের জিএম আল আমিন হাওলাদার বলেন, আবহাওয়ার কারণে যেভাবে কুয়াকাটা ভাঙছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা কুয়াকাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। সৈকত রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পিতভাবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গণমাধ্যমকর্মী ও পরিবেশকর্মী মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, গত ২০ বছর ধরে কুয়াকাটা সৈকতের ১৮ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পটি এখনো ঝুলে আছে। আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে কুয়াকাটাকে গড়ে তুলতে হলে দ্রুত সৈকত রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। ম্যানগ্রোভ ও নন ম্যানগ্রোভ উভয় ধরনের বনাঞ্চলই এখন হুমকির মুখে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ বনাঞ্চল বিলীন হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিঁনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলম বলেন, কুয়াকাটা সৈকতের ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালে ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আপাতত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে জিও টিউব ব্যবহার করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।