News update
  • As wars spread, the global food system unravels     |     
  • Holy Eid-e-Miladunnabi Wednesday     |     
  • EU sees Bangladesh as partner of growing strategic importance: Miller     |     
  • Journalism’s main task is to question power: Swapon     |     
  • Rohingya Crisis: Global Community Urges Long-Term Strategy     |     

মহাকাশ ভ্রমণের পর নভোচারীদের মধ্যে যেসব শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়

আর্টেমিস-২ এর চন্দ্রাভিযান

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 2026-04-11, 11:36am

tyterterttre-47a2d4454b2d03f04d3ae125c6c20aa01775885818.jpg




চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে ঐতিহাসিক ১০ দিনের চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। মহাকাশ অভিযানের পর নভোচারীরা সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে নাসা। তবে আপনি কি জানেন, পৃথিবীর কক্ষপথ বা তার বাইরে মহাকাশযানে ভ্রমণের পর নভোচারীদের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে বেশ কিছু শারীরিক পরিবর্তন?

বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে শক্তিশালী এস.এল.এস রকেটে চেপে মহাকাশে উড়াল দেয় আর্টেমিস-২। ১০ দিনের ভ্রমণ শেষে শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৭ মিনিটে নভোচারীদের ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযান প্রশান্ত মহাসাগরে প্যারাশুটের মাধ্যমে অবতরণ করে।

১০ দিনের চন্দ্রাভিযানের পর নভোচারীদের স্বাস্থ্যবার্তা প্রসঙ্গে নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারীই সুস্থ আছেন। তবে মহাকাশ অভিযানের পর তাদের মধ্যে কোনো শারীরিক পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে কি না তা এখনও প্রকাশ্যে আনেনি সংস্থাটি।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর কক্ষপথ বা তার বাইরে মহাকাশযানে ভ্রমণের পর নভোচারীরা যখন পৃথিবীতে ফিরে আসে তাদের মধ্যে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। তবে আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা খুব অল্প সময়ের জন্য মহাকাশ অভিযানে থাকায় তাদের মধ্যে তেমন কোনো পরিবর্তন না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

মহাকাশ অভিযানের পর যেসব পরিবর্তন হয় নভোচারীদের

গবেষণা বলছে, পৃথিবীর কক্ষপথ বা তার বাইরে এবং পৃথিবীর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের আবিষ্কৃত এ সূত্র মতে, মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলেই দুটি বস্তুর মধ্যে অদৃশ্য পারস্পরিক আকর্ষণ রয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, বস্তুর ভর যত বেশি হবে, তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও তত বেশি হয়। এ কারণে পৃথিবী তার শক্তি দিয়ে সব বস্তুকে নিজের কাছে টেনে ধরে।

কিন্তু দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে এ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব কমতে শুরু করে। যে কারণে পৃথিবীর কক্ষপথ বা তার বাইরে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি একেবারে শূন্যের কোঠায়। আর এর প্রভাবেই নভোচারীদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শূন্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে নভোচারীদের মধ্যে প্রথম যে পরিবর্তন হয় সেটি হলো: পেশি দুর্বল হওয়া ও হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নভোচারীর পিঠ, ঘাড় এবং পায়ের মাংসপেশী। 

এ কারণে মহাকাশ থেকে ফিরে আসার পর নভোচারীদের হাঁটতে কষ্ট হয়। পাশাপাশি মাথা ঘোরায়। পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে একাগ্রতা কমে। মস্তিষ্কে তরল জমে। চোখের বলের আকারে পরিবর্তন হয়। ঘ্রাণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তিও হ্রাস পায়।

এছাড়া দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকলে হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা হ্রাস, রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা এবং মহাকাশে উচ্চ মাত্রার রেডিয়েশনের কারণে ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। রক্তে শ্বেতকণিকা অনেক সময় কমে যায়। জিনগত পরিবর্তনের পাশাপাশি নভোচারীদের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। অনেক নভোচারীর ত্বকে দেখা দেয় র‍্যাশের সমস্যা। 

তবে মহাকাশ ভ্রমণের সুফলও রয়েছে। আর সেটি হলো সময়কে পেছনে ফেলা। বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাকাশ ভ্রমণে উচ্চগতি ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তি না থাকার কারণে মহাকাশচারীদের জন্য সময় পৃথিবীর ঘড়ির তুলনায় সামান্য ধীরগতিতে চলে। যে কারণে একই বয়সের পৃথিবীর দুই মানুষের একজন যখন মহাকাশ ভ্রমণে যান এবং দীর্ঘ সময় পর ফিরে আসেন তখন পৃথিবীতে থাকা মানুষের তুলনায় নভোচারীকে কমবয়সী মনে হয়। এ কারণে বয়সকে ধীরগতি করতে অনেক নভোচারীই মহাকাশ অভিযানে যেতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।