News update
  • USS Warrior Arrives in Chattogram for CARAT Bangladesh 2026     |     
  • Garment Workers’ Protest Shuts Five Metro Rail Stations     |     
  • Govt Forms Six-Member Wage Board for Garment Workers     |     
  • Dhaka ranks 4th among world's most polluted cities this morning     |     
  • Dhaka Launches Company-Operated Buses on Six Routes Today     |     

ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ ঝুঁকিতে ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদাররা

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বানিজ্য 2026-08-22, 11:05am

ttraamp_arthnaitik_yuddh_thaamb-db37d81fe6de412e97c555ca9e5ac93d1787375110.jpg




ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক মাস ধরে থেমে থেমে চলা সংঘাতের পর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো দেশকে হুমকি দিয়েছেন তিনি।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে যেসব দেশ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, তাদের প্রধান হলো চীন। এছাড়াও রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, রাশিয়া, ইরাক, জার্মানি, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও জাপানের মতো দেশগুলো।   

ইরানের মোট বাণিজ্যের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি চীনের সঙ্গে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরান চীন থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। আর চীনে রপ্তানি করে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

তেহরান থেকে বেইজিংয়ে রপ্তানির বড় অংশ ছিল হাইড্রোকার্বন ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত অ্যালকোহল এবং প্লাস্টিকের মতো রাসায়নিক পণ্য।

এর বিনিময়ে ইরান চীন থেকে শিল্পযন্ত্র, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, গাড়ি ও ধাতু আমদানি করে।

চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে সব ধরণের বাণিজ্য স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত ছিল দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।

ডব্লিউটিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এর মূল্য প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার।

ইরানের শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারির আগের ১০ মাসে ইরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। একই সময়ে আমিরাত থেকে ইরানে আমদানি হয়েছে ১৪ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। একই সময়ে চীন থেকে আমদানির চেয়েও এ পরিমাণ বেশি।

ইরানের আরেকটি বড় বাণিজ্যিক অংশীদার তুরস্ক। ইরানের শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ ১০ মাসে তুরস্ক থেকে ইরান ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।

অন্যদিকে ইরান থেকে তুরস্কে প্রায় ৭ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে হাইড্রোকার্বনজাত পণ্যই ছিল প্রধান।

ইরানের শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ ১০ মাসে ইরান থেকে রাশিয়ার আমদানির পরিমাণ ছিল ৯৩০ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে রাশিয়া থেকে ইরানে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

২০২২ সালে রাশিয়া শস্য, সোনা ও কাঠের বিনিময়ে ইরানের কৃষিপণ্য নিয়েছে। দুই দেশের সহযোগিতাও আরও বেড়েছে। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের জন্য কাস্পিয়ান সাগরে নতুন একটি নৌপথ চালুর কথা বলা হয়েছে।

জুলাইয়ে ইউক্রেন কাস্পিয়ান সাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায়। এতে তেহরান ক্ষুব্ধ হয়।

২০২৫ সালের শেষ ১০ মাসে ইরানে থেকে ইরাকে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ইরাক থেকে ইরানে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার।

ভারতের বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের বাণিজ্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের পর জ্বালানি সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে ভারত। সামুদ্রিক পরিবহন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামাঝি ভারত ইরান থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে।

জার্মানির সরকারি পরিসংখ্যান দপ্তর ডেস্টাটিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইরানে জার্মানির রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮৭০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউরো। একই সময়ে জার্মানি ইরান থেকে ২১৭ মিলিয়ন ইউরোর পণ্য আমদানি করেছে।

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরানে দেশটির রপ্তানি বেড়ে ৬৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। আগের বছর তা ছিল ৪৩ মিলিয়ন ডলার।

ইরানের তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে সরকারি হিসাবে আমদানি শূন্য।

জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরানে জাপানের রপ্তানি ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৮৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে আমদানি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ২৯ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ছিল ওষুধ, গাড়ি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি। আমদানির মধ্যে ছিল কাপড়জাত পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী।

২০২৪ সালে ফিলিপাইন ইরানে ৬৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। আগের বছর এ পরিমাণ ছিল ৩৮ মিলিয়ন ডলার।দেশটির পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ইরান থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার ডলারের কম।