
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) উদ্যোগে আজ রাজধানীতে ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণে হালাল’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ হাসান আরিফ। সভাপতিত্ব করেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইউবিএটি বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মোমিনুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি শাব্বির এ. খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. দীন ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, স্থানীয় শিল্পের বিকাশ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮২ শতাংশ তৈরি পোশাক খাতনির্ভর হওয়ায় নতুন পণ্য ও নতুন বাজারে প্রবেশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, খাদ্য ও কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, ওষুধ, হালাল পণ্য, প্রযুক্তিনির্ভর পোশাক, ইলেকট্রনিকস, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়া, আসবাবপত্র এবং জাহাজ নির্মাণ খাত ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত।
হালাল শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ হালাল পণ্য রপ্তানিতে সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগাতে পারেনি। বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাই দেশের জন্য একটি স্বতন্ত্র হালাল ব্র্যান্ডিং এবং একক হালাল কর্তৃপক্ষ গঠন প্রয়োজন।
প্রধান অতিথি মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। হালাল পণ্য শুধু খাদ্যপণ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এ খাতে আরও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
কর্মশালায় ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
কর্মশালা থেকে প্রধান সুপারিশ
বাংলাদেশকে হালাল পণ্যের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। হালাল পণ্যের জন্য একক হালাল বোর্ড/কর্তৃপক্ষ গঠন। উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত শরিয়াহ, স্বাস্থ্যবিধি ও নৈতিক মান নিশ্চিত করা। সক্ষমতা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের কৌশল গ্রহণ। আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার স্থাপন ও পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে গবেষণা, নীতি সহায়তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন। হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও অবকাঠামো তৈরি।