
অঘটন নয় কেপ ভার্দে যে ইতিহাস গড়তেই বিশ্বকাপে এসেছে সেটাই প্রমাণ করছে তারা। প্রথমে স্পেন, এবার উরুগুয়ে— কেপ ভার্দের বাধা পেরোতে পারল না কোনো দলই। রক্ষণে চীনের প্রাচীর তুলে একের পর আক্রমণ আটকে দিল তারা। দুই ম্যাচেই উলোট-পালোট করে ফেলল ইতিহাসের পাতা। উরুগুয়েকে রুখে দিয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল কেপ ভার্দে।
আজ সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ৪টায় যুক্তেরাষ্ট্রের মায়ামিতে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। জমজমাট লড়াই শেষে উরুগুয়েকে ২-২ গোলে রুখে দিয়েছে কেপ ভার্দে।
দুই ম্যাচে ড্র করে ২ পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় দল কেপ ভার্দে। সমান পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে উরুগুয়ে। ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে স্পেন। আর এক পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তলানীতে সৌদি আরব।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে কেপ ভার্দের রক্ষণে চাপ তৈরি করছিল উরুগুয়ে। দারুণ দক্ষতায় সেগুলো সামালও দিচ্ছিল আগের ম্যাচে স্পেনকে রুখে দেওয়া কেপ ভার্দে। এরই মাঝে প্রতিআক্রমণ থেকে নতুন ইতিহাস গড়ে ফেলে তারা।
ম্যাচের ২১তম মিনিটে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম গোল তুলে নেয় কেপ ভার্দে। তাদের হয়ে নতুন এই ইতিহাস গড়েন কেভিন লেনিনি। বক্সের সামনে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি গোল আদায় করে নেন তিনি।
এরপর দারুণ ডিফেন্সে সেই লিড ধরে রেখে আরেকটি চমক দেখানোর অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল তারা। ম্যাচের ৪৪ মিনিট পর্যন্ত সফলও ছিল তারা। কিন্তু এরপরই সব এলোমেলো হয়ে যায়।
ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে উরুগুয়ে। বক্সের মধ্যে দারুণ একটি ক্রস বাড়ান উরুগুয়ের একজন। সেটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রায় জালে বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন উরুগুয়ের সিডনি লোপেস ক্যাবরাল। সেটি বারে লেগে ফিরে এলে বল পান মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। কাছে থেকে হেডে বল জালে জড়ান তিনি।
যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন আগুস্তিন কানোবিও। আরাউহোর পাস থেকে বল পেয়ে দারুণ ভোলিতে বল জালে জড়ান আগুস্তিন। ২-১ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় উরুগুয়ে।
ম্যাচের ৬১তম মিনিটে কেপ ভার্দেকে সমতায় ফেরান হেলিও ভারেলা। ৫৮তম মিনিটে বদলি নেমে তিন মিনিট পরই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন তিনি।
থ্রো-ইন থেকে ভুল পাস দেন উরুগুয়ের ডিফেন্ডার ম্যাথিয়াস অলিভেরা। দারুণ গতিতে এগিয়ে এসে বলের দখল নেন। অবস্থা দেখে বক্স ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছিলেন গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। দারুণ প্লেসিং শটে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দেন ভারেলা।
এক মিনিট পরই আবারও উরুগুয়ের বুকে কাঁপন ধরিয়েছিলেন কেপ ভার্দের জেমিরো মন্টিয়েরা। প্রতিআক্রমণে ওঠে বক্সের সামনে থেকে বুলেট গতির শট নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটি চলে যায় গোলপোস্টের কিছুটা বাইরে দিয়ে।
৬৭তম মিনিটে কর্ণার থেকে কয়েক দফা ক্লিয়ার শেষে জটলার মধ্যে বল পেয়েছিল উরুগয়ে। গোলে নেওয়া শট আটকে গিয়ে গতি কমে গিয়েছিল। কিন্তু সেটি ঠিকঠাক মতো গ্লাসবন্দি করতে পারেননি গোলরক্ষক ভোজিনহো। সেটি জালে জড়িয়েছিলেন আরাউহো। কিন্তু সেটি বাতিল হয় অফসাইডে।
ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে এক সঙ্গে কয়েকটি আক্রমণ করে উরুগুয়ে। কিন্তু কেপ ভার্দের রক্ষণ দুর্গ ভাঙতে পারেনি তারা।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে প্রতিআক্রমণ ওঠেছিল উরুগুয়ে। ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে একাই বক্সের মধ্যে চলে যান নুনিয়জে। বাইলাইনের কাছাকাছি থেকে দারুণ একটি ক্রস বাড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটাকে পা-ছোঁয়ানোর কেউ ছিল না।
পরের মিনিটে আবারও প্রতিআক্রমণে ওঠে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল উরুগুয়ের আগুস্তিন। কিন্তু দারুণ ডিফেন্সে তাকে আটকে দেয় কেপ ভার্দে।
যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল কেপ ভার্দেও। বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়লেও দারুণ ট্যাকলে শট নিতে দেয়নি উরুগুয়ের ডিফেন্ডার।