
গত রাতে (১৮ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির। দীর্ঘ সময় থেকে চলে আসা জল্পনাকে পাশ কাটিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপ খেলতে উত্তর আমেরিকায় যাচ্ছেন সেলেসাওদের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলের মালিক নেইমার জুনিয়র। ২৬ সদস্যের দলে নেইমারকে জায়গা দিতে গিয়ে বাদ দিতে হয়েছে চেলসির স্ট্রাইকার জোয়াও পেদ্রোকে।
হতাশাজনক এই খবর জানার পর সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান জোয়াও পেদ্রো। তিনি লেখেন, 'আনন্দ আর হতাশা; এই দুটোই ফুটবলের অংশ।'
চেলসির এই স্ট্রাইকার আরও বলেন, 'আমি সবসময় আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার এই স্বপ্নটা এবার পূরণ হলো না। তবে আমি শান্ত আছি এবং মনোযোগ ধরে রাখছি, যেমনটা সবসময় করার চেষ্টা করি।'
হতাশ হলেও সিদ্ধান্তটিকে ব্যক্তিগতভাবে নেননি তিনি। বরং ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে বলেছেন, 'এখন থেকে আমি সবার জন্য শুভকামনা জানাই। আমিও আরেকজন সাধারণ সমর্থক হয়ে দলকে সমর্থন করব, যেন তারা ষষ্ঠ শিরোপা ঘরে তুলতে পারে।
চেলসির হয়ে জোয়াও পেদ্রোর পরিসংখ্যান অবশ্য বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়ার মতোই ছিল। তিনি ৪৯ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল এবং ৯টি অ্যাসিস্ট। শুধু তাই নয়, তাকে নিয়ে বার্সেলোনার আগ্রহের খবরও রয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে ক্লাবটি তাকে দলে ভিড়াতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতেও প্রস্তুত। সাম্প্রতিক সময়ে আনচেলত্তির স্কোয়াডেও তিনি নিয়মিত ছিলেন।
মজার বিষয় হলো, সম্প্রতি পেদ্রো নিজেই চেয়েছিলেন নেইমার যেন বিশ্বকাপ দলে থাকেন, আর শেষ পর্যন্ত তার কারণেই জায়গা হলো না খোদ চেলসি তারকার। তিনি টিএনটি স্পোর্টসকে বলেছিলেন, 'নেইমার আমার আদর্শ। আমি আশা করি সে বিশ্বকাপে থাকবে এবং আমিও তার সঙ্গে থাকতে পারব। তাকে সেখানে দেখতে চাই।'
কিন্তু বাস্তবতা এখন উল্টো। নেইমার খেলবেন তার চতুর্থ ও সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, আর পেদ্রোকে হয়তো অপেক্ষা করতে হবে আরও অন্তত চার বছর।
বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের চূড়ান্ত স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: অ্যালিসন (লিভারপুল), এদেরসন (ফেনেরবাচে), ওয়েভারটন (গ্রেমিও);
ডিফেন্ডার: অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্লামেঙ্গো), ব্রেমার (জুভেন্টাস), দানিলো (ফ্লামেঙ্গো), ডগলাস সান্তোস (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস (আর্সেনাল), ইবানেজ (আল আহলি), লিও পেরেইরা (ফ্লামেঙ্গো), মার্কুইনিয়োস (পিএসজি), ওয়েসলি (রোমা);
মিডফিল্ডার: ব্রুনো গুইমারায়েস (নিউক্যাসল ইউনাইটেড), ক্যাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো (বোতাফাগো), ফ্যাবিনিয়ো (আল ইত্তিহাদ), লুকাস পাকেতা (ফ্লামেঙ্গো);
ফরোয়ার্ড: এন্দরিক (লিওঁ/রিয়াল মাদ্রিদ), গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), লুইজ হেনরিকে (জেনিত), মাথেউস কুনিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নেইমার জুনিয়র (সান্তোস), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ) এবং ভিনিসিউস জুনিয়র।