News update
  • Patients in peril as Rangpur Medical docs’ strike enters 2nd day     |     
  • Reach polling centres before Fajr to safeguard votes: Tarique     |     
  • Tarique Rahman Urges Voters to Protect Their Democratic Rights     |     
  • Bangladesh Approves Historic Economic Partnership With Japan     |     
  • Advisory Council Approves Dhaka Central University Ordinance     |     

ভোটের ফল পেতে কত সময়, সরকার গঠনে থাকবে কি গণভোটের প্রভাব?

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক নির্বাচন 2026-01-23, 7:35am

ererwgey-734270c51cf0a7daf183590e2c4d54931769132138.jpg

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব বেছে নেবে দেশবাসী। ছবি সংগৃহীত



আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব বেছে নেবে দেশবাসী। ২০২৪ সালে স্বৈরাচারকে হটানো ছাত্র-তরুণ ও দেশের আপামর মানুষের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে প্রণয়ন করা জুলাই সনদের পক্ষেও এদিন গণভোট হবে। যে কারণে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা দখল করে নেবে।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় এবার ভোট গণনা এবং ফল প্রকাশে বেশি সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সে অনুযায়ী সরকার গঠন ও শপথেও একটু বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্রপ্রার্থীরা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন।

এরমধ্যে শাহজালাল (র.) স্মৃতিধন্য সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। এছাড়া আরও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরাও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন

নির্বাচনের ফল পেতে লাগবে বেশি সময়

এবার গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন ভিন্ন ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে। যে কারণে ভোট গণনা এবং ফল প্রকাশে বেশি সময় লাগবে। এর পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটের গণনাও রয়েছে। সবকিছু মিলে ফল প্রকাশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগবেই।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বুধবার মধ্যরাত থেকে ব্যালট পেপার মুদ্রণ কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। ভোট গণনায় দেরি হলে নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর আশঙ্কাও থাকে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে একসঙ্গে দুটি ভোটের গণনা হবে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে পোস্টাল ব্যালটের হিসাব, যে কারণে কিছুক্ষেত্রে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে।

প্রেস সচিব আরও বলেন, চলতি নির্বাচনে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সঠিক ও নির্ভুলভাবে ভোট গণনা নিশ্চিত করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।

আগের সংসদ নির্বাচনে শপথ গ্রহণে কত সময় লেগেছে?

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বিভিন্ন সময় বিঘ্নিত হয়। তবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচন দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরে বাংলাদেশ। যদিও সর্বশেষ তিনটি সংসদ নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে।

আগের সংসদ নির্বাচনের পর শপথ ও সরকার গঠনে এক সপ্তাহের কমবেশি কিছু সময় লেগেছে।

পঞ্চম সংসদ

নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে। পরে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে দলটি। ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বেগম খালেদা জিয়া। মুসলিম বিশ্বে পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর তিনিই ছিলেন দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।

সপ্তম সংসদ

১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। ২০০১ সালে মেয়াদ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয় বিএনপির কাছে।

অষ্টম সংসদ

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের নেতৃত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া। ওই নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ১৯৩টি এবং জোটগতভাবে ২১৬টি আসনে জয়লাভ করে, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই মেয়াদে তিনি পূর্ণ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

নবম সংসদ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীন ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা।

ভোট গণনা ও সরকার গঠনে এবার কত সময় লাগবে (বিশেষজ্ঞ মত)

ভোট গণনা, গণভোটের কোনো প্রভাব সরকার গঠনে থাকবে কি না এবং নতুন সরকার নিয়ে সময় সংবাদের সঙ্গে কথা হয় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীনের।

তার মতে, নির্বাচন কমিশনের দেয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা নতুন সরকার দেখতে পারবো। সেক্ষেত্রে গণভোট এবং পোস্টাল ব্যালটসহ স্বাভাবিক ভোট গণনায় এবার একটু বেশি সময় লাগতে পারে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হলে সর্বোচ্চ ১৪-১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হয়তো রেজাল্ট পাওয়া যাবে।

নির্বাচনের জয়-পরাজয় নির্ধারণে পোস্টাল ব্যালট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি সময় সংবাদ

সরকার গঠনে গণভোটের প্রভাব থাকতে পারে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ফল পাওয়ার পর সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এতে অবশ্যই গণভোট প্রভাব ফেলবে। যদি এবার হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হয়, সেক্ষেত্রে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নির্বাচিত সরকারের ঘাড়েই বর্তাবে। সেক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষসহ বিভিন্ন ইস্যু সমাধান করেই সরকার গঠন হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হলে সবকিছু শেষ করে হয়তো ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ আমরা নতুন সরকার দেখতে পাবো।

এদিকে ভোট গণনায় বেশি সময় লাগলে গুজব ছড়ানোসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতা সৃষ্টির শঙ্কার কথা জানিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া।

তিনি বলেন, এবার দুই ধরনের কাউন্টের বিষয় থাকায় আগের নির্বাচনগুলোর চেয়ে বেশি সময় লাগাটা স্বাভাবিক। প্রথমেই যদি আলাদা বক্স করা হয়, সেক্ষেত্রে অনুমানের চেয়ে কম সময় লাগতে পারে। প্রতিযোগী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট কাছাকাছি থাকলে পোস্টাল ব্যালটের কাউন্টিংয়ের বিষয়গুলো বড় হয়ে সামনে আসবে এবং রিকাউন্টিংয়ের মতো বিষয়গুলো অনেক সংসদীয় এলাকায় দেখা দিলে বেশি সময় লাগতে পারে। 

এই বাড়তি সময়টা বিভিন্ন ধরনের গুজব সৃষ্টিতে টনিক হিসেবে কাজ করতে পারে। এর পরিণাম স্বরূপ সরকার গঠন রাজপথে ও আইনি লড়াইয়ের মধ্যে পড়তে পারে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন অধ্যাপক জাকারিয়া।  

তবে ’না’ ভোট জয়যুক্ত হলে সেক্ষেত্রে সরকার গঠনে সময় কিছুটা কম লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অবশ্য সবকিছুই নির্ভর করছে ১২ ফেব্রুয়ারি জনতার রায় কোন দিকে যায় তার ওপর।