News update
  • Philip Sangma arrested for aiding Hadi murder suspects escape     |     
  • Govt Issues Notice on Visa Extension for Expatriates     |     
  • Khamenei Warns US, Israel in First Speech as Leader     |     
  • Protests, Walkout Mark President’s Address in Parliament     |     
  • UNSC fails to adopt resolution for halting Middle East crisis     |     

গ্রাম পুলিশ নিয়োগে প্রার্থীদের কাছ থেকে ৪-৫ লাখ টাকা ঘুষ নেবার অভিযোগ

দুর্নীতি 2026-03-12, 11:22am

fresh-noted-of-taka-currency-5925a901df1e819a9effffef074063741773292930.jpg

Fresh noted of Taka currency. Photo collected



পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগে ঘুষ দেয়ার জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যানের ৪-৫ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভযোগের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ধূলাসার ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিমকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তাকে এই বিষয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ঘুষ লেন দিনের ওই ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, নিজ বাসভবনে খালি গায়ে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় বসে আছেন চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম। তার হাতে কয়েক বান্ডিল টাকা দিচ্ছেন নিয়োগ প্রত্যাশীরা। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। ইউএনও'র টাকা দিতে হবে তার ক্লার্ক আবুল বাশার অথবা পিয়ন মামুনের কাছে। 

এদিকে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে ইউএনওকে দেয়ার নামে ইউপি চেয়ারম্যানের ঘুষ কান্ডের ভিডিও ফুটেজটি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিমকে শোকজসহ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ধূলাসার ইউনিয়নে ৪ জন গ্রাম পুলিশ নিয়োগের বিপরীতে একেকজন প্রার্থীর কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। ভিডিওতে সুনির্দিষ্টভাবে ৬নং ওয়ার্ডের প্রার্থী তামিমের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ১৬ জন গ্রাম পুলিশের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ১৮ নভেম্বর ২০২৫ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কলাপাড়া ইউএনও কাউছার হামিদ। ১৬ টি শুন্য পদের বিপরীতে ৮২ জন আবেদন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০ টায় মঙ্গলসুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতার পরীক্ষা নেয়া হয়। একই দিন বিকেল ৩ টায় লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয় পরীক্ষার্থীদের। এ সময় নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি, সদস্য সচিব সহ অপর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানান ইউএনও কাউছার হামিদ।

নিয়োগ বোর্ডের সদস্য মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান দাবি করেন, পরীক্ষার দিন তিনি পটুয়াখালীতে মিটিংয়ে ছিলেন। 

নিয়োগ বোর্ডের অপর সদস্য স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রাম পুলিশ নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তাঁর দাবি স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। 

অভিযুক্ত ধূলাসার ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম বলেন, প্রার্থীদের কাছ থেকে নেয়া টাকা তাদের ফেরত দিয়ে দেয়া হয়েছে। তিঁনি ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি তাঁর । এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের শোকজ নোটিশের জবাব নির্দেশিত সময়ের মধ্যেই তিঁনি দিবেন বলেও জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে ভিডিওর বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। চেয়ারম্যান কে ইতিমধ্যে শোকজ করা হয়েছে এবং  তিঁনি জবাব দিলে সেটি জেলা প্রশাসন বরাবর প্রেরণ করা হবে। 

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী, জুয়েল রানা বলেন,  বিষয়টি অবগত হয়েছি। ঘুষ লেনদেনে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান কে শোকজ করা হয়েছে। তার জবাব উপজেলা থেকে জেলায়  পাঠালে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী'র কাছে এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ  এর ক্ষুদেবার্তায় বার্তায় বিষয়টি নিয়ে ইউএনও'র সাথে কথা বলতে বলেন তিঁনি। - গোফরান পলাশ