
Sourav plucks dragon from his garden in Kalapara.
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ড্রাগন চাষ করে সফলতা পেয়েছেন সৌরভ কুমার বিশ্বাস। তার বাড়ি উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে।
২০১৮ সালে এক শিক্ষকের কাছ থেকে মাত্র ১২টি ড্রাগনের কাটিং সংগ্রহ করে বাড়ির পাশে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন গাছের চারা রোপন করেন সৌরভ। পড়ালেখার পাশাপাশি পরিচর্যা করায় ধীরে ধীরে ড্রাগন গাছগুলোতে ফল ধরে। তাই এর প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে তার। ২০২২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে কৃষিকেই জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন সৌরভ। বিশেষ করে লাইটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১২ মাসই ফল উৎপাদন করছেন। ফলে মৌসুমের বাইরে গিয়েও বাজারে ড্রাগনের চাহিদা কাজে লাগিয়ে বাড়তি লাভ পাচ্ছেন। এতে প্রতিদিন বাগান দেখতে ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের মানুষ। তার সফলতার গল্প শুনে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন ড্রাগন চাষে ।
সৌরভ জানান, ২০২৩ সালে তার বাবা স্বপন কুমার বিশ্বাসের সহযোগিতায় বড় পরিসরে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। বর্তমানে দুই বিঘা জমিজুড়ে গড়ে তুলেছেন আধুনিক ড্রাগন বাগান। সেখানে রয়েছে ইলোরা, পালোরা, রেড ভেলভেট, বোল্ডার ও থাই রেডসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় দুই হাজার গাছ। এতে লাইটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ১২ মাসই উৎপাদন করা হয় ফল । এসব ড্রাগন ফল বিক্রি করে বছরে ৮ থেক ৯ লাখ টাকা ইনকাম হচ্ছে। এখন আর তার চাকরি করার ইচ্ছে নেই। তবে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ করলে যে কোন কৃষিতেই সফল হওয়া সম্ভব। আমি চাই তরুণরা বেকার না থেকে কৃষিতে এগিয়ে আসুক।
দর্শনার্থী মিজানুর রহমান বলেন, এখানে এসে জানতে পারলাম, সারা বছরই ড্রগন ফল উৎপাদন করা যায়। তাই ছোট পরিসরে হলেও এ ধরনের একটি বাগান করার ইচ্ছা রয়েছে আমার।
উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা মো.আরাফাত হোসেন জানান, কলাপাড়া উপজেলাটি বহুমুখী কৃষির জন্য সমৃদ্ধ। তুলাতলী গ্রামের একজন মডেল কৃষক সৌরভ। তার বাবার দুই বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছে । এ গাছগুলোতে মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফল থাকে। তবে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে বছরের ১২ মাসই ড্রাগন উৎপাদন করা যায় তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই সৌরভ। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছি। - গোফরান পলাশ