
হারলেই সিরিজ খোয়াতে হবে টাইগারদের, এমন সমীকরণে আগে ফিল্ডিং করতে নেমে আয়ারল্যান্ডকে ১৭০ রানে আটকায় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ইমন-তামিমের ব্যাটে ভালো শুরু পায় স্বাগতিকরা। তবে স্কোরবোর্ডে ২৬ রান যোগ হতেই ফেরেন তানজিদ তামিম। একপ্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন পারভেজ হোসেন ইমন। তার সঙ্গে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ফিফটি তুলে নেন অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। শেষ পর্যন্ত ২ বল বাকি থাকতেই আয়ারল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা আনলো বাংলাদেশ।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) চট্টগ্রামের মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় আয়ারল্যান্ড। পাওয়ার প্লেতে তারা স্কোরবোর্ডে যোগ করে ১ উইকেটে ৭৫ রান। টিম টেক্টরের ৩৮ ও লকরান টেক্টরের ৪১ রানের ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় আইরিশরা।
লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশও। দলীয় ২৬ রানের মাথায় ১০ বলে ৭ রান করা তানজিদ আউট হলেও একপ্রান্তে একাই রান তুলেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। তিন নম্বরে নেমে ইমনকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক লিটন দাস। ২৮ বলে ৪৩ রান করে ইমন ফিরলে ভাঙে তাদের ৬০ রানের জুটি।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাইফ হাসানকে নিয়ে ৫২ রানের জুটি গড়েন লিটন। ১৭ বলে ২২ রান করা সাইফ ফেরেন ডেলানির বলে ম্যাথিউ হামফ্রিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে। এরপর তাওহীদ হৃদয় ফেরেন রানআউট হয়ে। নুরুল হোসেন সোহানও ছিলেন এদিন ব্যর্থ। ৭ বলে ৫ রান করে ফেরেন মার্ক অ্যাডেয়ারের বলে বোল্ড হয়ে।
এরপর আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি সাইফউদ্দিন ও শেখ মেহেদি হাসান। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন দুজনে। সাইফউদ্দিন অপরাজিত থাকেন ৭ বলে ১৭ রানে। অন্যদিনে মেহেদি অপরাজিত থাকেন ৩ বলে ৬ রানে। আয়ারল্যান্ডের হয়ে মার্ক অ্যাডেয়ার ও গ্যারেথ ডেলানি নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে আইরিশদের উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টর। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে ১৪ বলে ২৯ রান করা স্টার্লিংকে ফেরান তানজিম হাসান সাকিব।
এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন টিম টেক্টর। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে থাকেন হ্যারি টেক্টর। ধীরে ধীরে বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন এই দুই ব্যাটার। তবে নবম ওভারে বল করতে এসে জোড়া আঘাত এনে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান শেখ মেহেদি।
ওভারের প্রথম বলটা পপিং ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে বল মিস করেন টিম টেক্টর। স্টাম্পড আউট করতে কোনো ভুল করেননি লিটন দাস। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ৩৮ রান। একই ওভারের পঞ্চম বলে হ্যারি টেক্টরকে বোল্ড আউট করে সাজঘরের পথ দেখান মেহেদি। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ১১ রান। ৮৯ রানে ৩ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড।
দলীয় ১০৩ রানের মাথায় বেন কালিৎজকে ফেরান মেহেদি। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ৯ বলে ৭ রান। পঞ্চম উইকেট জুটিতে জর্জ ডকরেলকে সঙ্গে নিয়ে রান তুলতে থাকেন লকরান টাকার। ১৫৯ রানের মাথায় ডকরেল আউট হলে ভাঙে তাদের ৪৪ বলে ৫৬ রানের জুটি। সাইফউদ্দিনের বলে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে ১৮ রান।
ইনিংসের শেষ বলে রানআউটে কাটা পড়েন উইকেটরক্ষক ব্যাটার লকরান টাকার। তার ব্যাট থেকে আসে ৩২ বলে ৪১ রান। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রানের পুঁজি পায় আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে শেখ মেহেদি নেন ৩ উইকেট। এছাড়া তানজিম হাসান সাকিব ও সাইফউদ্দিন নেন একটি করে উইকেট।