News update
  • ECNEC Approves 8 Projects Worth Tk 2,266 Crore     |     
  • No Plan to Drop Bangla, History from Honours: Milon     |     
  • Global turmoil shadows Bonn climate talks     |     
  • Dhaka's air quality recorded ‘moderate’ Tuesday morning     |     
  • Court seeks Interpol red notices for 2 fugitives in Tonu killing     |     

২১ বছর পর ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াবধ বাংলাদেশের

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ক্রিকেট 2026-06-10, 6:56am

baanlaadesh_1-5f1f0b3f91999ccc76a485bdf3e39f761781052988.jpg




মিরপুরের আকাশে তখন আলো-আঁধারির খেলা। বৃষ্টি আসি আসি সন্ধ্যা। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই কারও। ফ্লাডলাইটের নিচে সবুজ গালিচায় তাকিয়ে সবার চোখ জ্বলজ্বল করছে। হঠাৎ বজ্রপাত। যেন অস্ট্রেলিয়ার ভাবনার প্রতিফলন। বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের নাজেহাল হওয়া তো বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই। খেলা বন্ধ হয়। খানিক বাদে শুরু হয় বৃষ্টি। বাড়ে অপেক্ষা। প্রায় এক ঘণ্টা পর ঘটেছে অপেক্ষার অবসান।

যে অপেক্ষা একটি প্রজন্মের, যে অপেক্ষা একটি জয়ের। ২১ বছর ও ১৫ ম্যাচ পর ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে হারিয়েছে লাল-সবুজের দল।

শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া।

২০০৫ সালে ব্রিটেনের কার্ডিফে এমনই এক জুনে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার ওয়ানডেতে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তারপর কেটেছে ২১ বছর, দুদল ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে আরও ১৫ বার। ২০১৭ সালে ওভালে একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। এছাড়া প্রতিবারই হারের তিক্ততা ছিল বাংলাদেশের ভাগ্যে। দুর্ভাগ্যের গল্পটা অবেশেষে পরিণত হয়েছে দুর্দান্ত এক জয়ে।

ম্যাচের আগের দিন নাহিদ রানাকে নিয়ে ভয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া। যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়। নাহিদের পেস তোপে ছন্নছাড়া হয়েছে অসিরা। নাহিদ একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট। 

অস্ট্রেলিয়া শিবিরে প্রথম আঘাত অবশ্য হানেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম বলেই অস্ট্রেলিয়ার স্ট্যাম্প ভেঙে দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভেঙেছে অসি ওপেনার ম্যাথু স্কটের স্ট্যাম্প। শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন স্কট। 

ওয়ানডের বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ক্রিজে থিতু হওয়ার আগে ফের আঘাত বাংলাদেশের। এবার দৃশ্যপটে মুস্তাফিজুর রহমান। দ্বিতীয় ওভারে দ্বিতীয় বলে মুস্তাফিজ লেগ বিফোর করেন মার্নাস লাবুশেনকে। আম্পায়ার অবশ্য প্রথমে সাড়া দেন। রিভিউ নিয়ে উইকেট আদায় করে স্বাগতিকরা। ২ রানে ২ উইকেট হারায় সফরকারীরা।

অসি অধিনায়ক জস ইংলিশকে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেন নাহিদ রানা। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারানো অসিদের ধরেন কুপার কনোলি। ৫০ বলে ৩৫ করে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা কনোলিকে ফেরান মোসাদ্দেক হোসেন। তাকে বোল্ড করে বল হাতে এনে দেন ব্রেক থ্রু।  

নিজের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে রানা সাজঘরে ফেরান অ্যালেক্স ক্যারিকে। এবারও উইকেটের পেছনে ক্যাচ নেন লিটন। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে আরেকবার জ্বলে ওঠেন মোসাদ্দেক। ম্যাট রেনশোকে লেগবিফোর করেন তিনি। নাহিদের বলে লিয়াম স্কটের ক্যাচ নেন তাওহিদ হৃদয়। অস্ট্রেলিয়া হারায় সপ্তম উইকেট। হাভিয়ের বার্টলেটকেও টিকতে দেননি গতিতারকা নাহিদ। 

নবম ব্যাটার হিসেবে নাথান এলিসকে সাজঘরে পাঠান মুস্তাফিজ। সেটিই হয়ে রয় ম্যাচের শেষ উইকেট।

ব্যাট হাতে দিনের শুরুটা হতাশা জাগানিয়া হলেও, দ্রুতই নিজেদের সামলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ওপেনিং ব্যর্থ হবে, এ আর নতুন কী! ব্যতিক্রম ঘটেনি আজও। দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরের পথ ধরেন সাইফ হাসান। নাথান এলিসের বলে মার্নাস লাবুশেনের তালুবন্দি হয়ে ৫ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন সাইফ। ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

এরপর হাল ধরেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে আসে ৯৬ রান। ৪৪ বলে ৫৪ রান করে এলিসের বলে মিড-অফে হাভিয়ের বারলেটের হাতে ক্যাচ দেন তামিম। তামিম ফেরার পর উইকেটে আসেন লিটন দাস। তিনিও বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না উইকেটে। রেনশোর বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। ৯ বলে মাত্র ৭ রান করেই ফেরেন এই ব্যাটার। শান্ত বিদায় নেন ৮৬ বলে ৬৭ রানে। ম্যাট রেনশোর বলে লং অফে কুপার কনোলির হাতে ধরা পড়েন তিনি।

অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ লিয়াম স্কটের বলে লেগবিফোর হন ১২ বলে ৩ রানে। ৬ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে যাওয়া স্বাগতিকদের টেনে তোলেন মোসাদ্দেক। চার বছর পর দলে সুযোগ পেয়ে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি।

প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস উপহার দিয়েছেন মোসাদ্দেক। ৭০ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

মোসাদ্দেককে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও তাসকিন আহমেদ। ৫১ বলে ৩১ রান করেন হৃদয়। ১৬ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২০ রান আসে তাসকিনের ব্যাট থেকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২৮৪/৮ (সাইফ ৫, তামিম ৫৪, শান্ত ৬৭, লিটন ৭, হৃদয় ৩১, মিরাজ ৩, তানভীর ৫, তাসকিন ২০, মোসাদ্দেক ৮৬*; ব্রেটলেট ১০-০-৬২-১, এলিস ১০-১-৩৮-৩, স্কট ৮-০-৫৭-২, গ্রিন ৪-০-৩১-০, শর্ট ৩-০-১৪-০, রেনশো ৮-০-৩৫-২, জাম্পা ৭-০-৪৭-০)

অস্ট্রেলিয়া : ৪২.২ ওভারে ১৯১/৯ (শর্ট ০, কনোলি ৩৫, লাবুশেন ১, ইংলিশ ১৯, ক্যারি ৪৭, রেনশো ২, স্কট ২, ব্রেটলেট ১, এলিস ৮. গ্রিন ৫২*, জাম্পা ৬*; তাসকিন ৫-০-২৮-১, মুস্তাফিজ ৫.২-০-২৪-২, নাহিদ ১০-৪১-৪, মিরাজ ৬-১-২৩-০, মোসাদ্দেক ১০-১-৩৭-২, তানভীর ৬-১-৩৩-০)

ফলাফল : বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী।