
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে একাধিক নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অননুমোদিত নতুন প্রকল্প ইতোমধ্যে ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের উপস্থিতিতে উল্লিখিত প্রকল্পসমূহ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ বিষয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আনন্দমুখর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রাথমিক শিক্ষা শুধু পাঠদান নয়, বরং একটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশের ভিত্তি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সংযোজন, খেলাধুলা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একটি যুগোপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্মার্ট প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শহর, গ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী পরবর্তীতে প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (পিইডিপি)-৫ প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় তিনি প্রকল্পটির বিভিন্ন কম্পোনেন্ট, বাস্তবায়ন কৌশল, মনিটরিং ব্যবস্থা, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, বর্তমানে দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে পাঠ অনুধাবন, শ্রবণ দক্ষতা, কথোপকথন, লেখা এবং ভাষাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ নতুনভাবে কাজ করছে। ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী একটি সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল এডুকেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থা হবে প্রযুক্তিনির্ভর, যেখানে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), স্মার্ট অ্যাসেসমেন্ট, স্কুল ম্যানেজমেন্ট, শিক্ষক উপস্থিতি, লেসন প্ল্যান এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ সবকিছু একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে।
সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহের মধ্যে রয়েছে- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প, বিদ্যমান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১ টি সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলায় মাঠ উন্নয়ন প্রকল্প, নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ আকর্ষণীয়ভাবে সজ্জিতকরণ প্রকল্প, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল প্রকল্প (২য় পর্যায়), নেক্সটজেন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম, পার্বত্য জেলা গুলোর বিদুৎবিহীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎতায়ন প্রকল্প, ঢাকা মহানগরীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, সারাদেশের সকল পিটিআই এর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, ইউনিয়ন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প, মোট ১৩ টি প্রকল্প।