
Brown surgeon fish caughters in the net of a fisherman in Kuakata on Thursday 02 April 2026.
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে এবার ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি 'ব্রাউন সার্জনফিশ'। মাছটি স্থানীয়ভাবে অনেকের কাছে ‘ট্যাং মাছ’ নামেও পরিচিত। বুধবার শেষ বিকেলে মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হলে এটি দেখতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে গভীর সমুদ্রে নিয়মিত মাছ ধরার সময় হঠাৎ এই অদ্ভুত ধরনের মাছটি তাদের জালে আটকা পড়ে। সচরাচর এ ধরনের মাছ জালে না পড়ায় তারা এটিকে তীরে নিয়ে আসেন। মাছটির গায়ের রঙ ধূসর থেকে বাদামি এবং এর শরীর ডিম্বাকৃতি ও পাশ থেকে কিছুটা চাপা।
সার্জনফিশ সাধারণত ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা। এই মাছগুলো দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরসহ বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণ জলবায়ুর সমুদ্রে এদের দেখা মেলে। বাংলাদেশে খাওয়ার মাছ হিসেবে তেমন প্রচলিত না হলেও বিশ্বজুড়ে এর কদর রয়েছে মূলত অ্যাকোয়ারিয়ামের শো-পিস হিসেবে। বাংলাদেশে এ মাছ কেজি দরে নয়, বরং পিস হিসেবে বিক্রি হয়। বিশেষ করে 'ব্লু ট্যাং' প্রজাতির একেকটি মাছের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় রাজা মোল্লা বলেন, ‘এমন মাছ আমরা আগে কখনো দেখি নাই। দেখতে একদম আলাদা ও সুন্দর, তাই খবর পেয়ে দেখতে এলাম।’
ওয়ার্ল্ডফিশ-এর সাবেক গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, ব্রাউন সার্জনফিশ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পানিতে চলাচল করতে পারে। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো লেজের গোড়ায় থাকা ছোট কিন্তু অত্যন্ত ধারালো কাঁটা, যা এরা আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহার করে। এই ধারালো কাঁটার কারণেই মাছটির নাম হয়েছে ‘সার্জনফিশ'। তিনি আরও জানান, এরা মূলত প্রবালপ্রাচীর এলাকায় বাস করে এবং শৈবাল খেয়ে সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, এ ধরনের সার্জনফিশ আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলে খুব একটা দেখা যায় না, তবে বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পানিতে এদের বিচরণ রয়েছে। মাছটি পরিবেশগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে লেজের ধারালো কাঁটার কারণে জেলেদের এটি ধরার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।’ - গোফরান পলাশ