
সংবিধান সংস্কার বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে দেখা গেছে,গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’–উভয় ধরনের ভোটের সংখ্যাই আগের ঘোষিত প্রাথমিক ফলাফলের চেয়ে কমেছে। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এই সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সংশোধিত গেজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রাথমিক ফলাফলের তুলনায় ভোট গণনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে; যেখানে আগে ঘোষণা করা ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টিতে (৯,৭৪,৬৮০ ভোট কমেছে), এবং ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি ‘না’ ভোট কমে হয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি (১,১১,৪৯৫ ভোট কমেছে)। অন্যদিকে, বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা আগের ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ থেকে ১২,৫৫৯টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টিতে, যার ফলে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ থেকে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টিতে।
প্রাথমিক ফলাফলে বাতিল ভোট বাদে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি। সংশোধিত গেজেটে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি। অর্থাৎ, বৈধ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১০ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৫টি। সামগ্রিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে।
নির্বাচন কমিশন এই বিশাল অঙ্কের ভোট কমার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারিগরি ত্রুটি বা কারণ উল্লেখ করেনি। বিজ্ঞপ্তিতে কেবল জানানো হয়েছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবে জনগণের সম্মতি যাচাইয়ে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কমিশনের আদেশক্রমেই জনস্বার্থে এই সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সাংবিধানিক বৈধতা এবং জনসম্মতি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী গণভোটের আয়োজন করা হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর আজ সেই ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করল কমিশন।