
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গুলিতে নিহত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। বুধবার (৬ মে) মধ্যমগ্রামে তার গাড়ি থামিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় অস্ত্রধারীরা। এসময় গুলিবিদ্ধ হন গাড়ির চালকও। এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু। মমতার দলের দিকে অভিযোগের তির বিজেপির। তবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় উত্তপ্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। বুধবার স্থানীয় সময় রাতে কলকাতা থেকে ফেরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীর গাড়ি থামায় কয়েকজন। গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন চন্দ্রনাথ রথ।
গুলিবিদ্ধ হন চালক বুদ্ধদেব বেড়া। ঘটনার পরপরই সেখানে পৌঁছায় নিরাপত্তা বাহিনী। হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয় বিজেপি সমর্থকরা বিক্ষোভ করেন।
গুলির ঘটনার পর নিহতের মরদেহ ও আহতকে স্থানীয় হাসপাতালে রাখা হয়। রাতেই সেখানে যান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারী হত্যার ঘটনায় বিজেপির সন্দেহের তির মমতার দলের দিকে। তবে তৃণমূল এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সব হত্যার ঘটনা তদন্তের আহ্বান দলটির।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই পশ্চিম বর্ধমানে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাংচুর শুরু করে বিজেপির কর্মীরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে দলীয় কার্যালয় দখলেরও হিড়িক পড়েছে।
বিজেপি কর্মীদের দাবি, এগুলো আগে কংগ্রেসের অফিস ছিল, তৃণমূল কর্মীরা স্বেচ্ছায় তাদের হাতে তুলে দিয়েছে।
দখলের পাশাপাশি সংঘাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বেলেঘাটা, নিউ টাউন, বীরভূম, হাওড়া আর উদয়নারায়ণপুরেও তৃণমূল-বিজেপি কর্মীর মৃত্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা রাজ্য। মুর্শিদাবাদে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন সিপিএম কর্মী। রাজ্যজুড়ে চলা সহিংসতা থামাতে ৭০০ প্লাটুন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। বিধানসভায় দলের নেতা ঠিক করতে দফায় দফায় বৈঠক করছে দলটি। পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে গত কয়েক বছর ধরে তিনিই বিজেপির প্রধান মুখ। ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর পর তার দাবি আরও জোরাল হয়েছে।
অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটে হেরে যাওয়ার পরও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা না দেয়ার নজির দেশে নেই উল্লেখ করে দেশটির সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত ইস্তফা না দিলে ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন নজির তৈরি হবে।
তবে ৭ মে তৃণমূল সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায়, ইস্তফা না দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এদিনই মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারাবেন মমতা।