News update
  • PM arrives in Tokyo on four-day state visit to Japan     |     
  • Saint Martin’s Island to Reopen for Tourists on Nov 1     |     
  • France Arrests More Than 1,300 After Nationwide Protests     |     
  • Dhaka ranks world's third most polluted city this morning     |     
  • Soldiers Guard Milan as Thousands Protest Across Europe     |     

নির্বাসন শেষে ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-10-26, 7:11am

gettyimages-2164475813-2f0716ec1e93fe99587af704c08478e51792977063.jpg




দীর্ঘ ১০ মাসেরও বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। এমন এক সময়ে তিনি দেশে ফিরলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে তার অনুপস্থিতিতেই ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পুনর্গঠিত হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় মাচাদো তার প্রত্যাবর্তনের কথা নিশ্চিত করে লেখেন, আমি ফিরে এসেছি। আপনাদের সঙ্গে আছি। পরবর্তীতে বিরোধী দলের অন্যান্য সদস্যরাও বিস্তারিত বিবরণ না দিয়ে তার দেশে পৌঁছানোর তথ্যটি নিশ্চিত করেন। খবর সিএনএনের। 

সাবেক বিরোধী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস উরুতিয়া (যিনি নিজেও বর্তমানে নির্বাসনে রয়েছেন) মাচাদোর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আজ ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই প্রক্রিয়াকে নেতৃত্ব দিতে ও দিকনির্দেশনা দিতে আমাদের সার্বভৌম কণ্ঠস্বর তার সঙ্গে ফিরে এসেছে। খুব শিগগিরই তিনিও স্বদেশে ফিরবেন বলে জানান। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে শেয়ার করা ছবিতে মাচাদোকে লারা স্টেটের সান্টা রোসা চার্চে সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করতে দেখা যায়।

এদিকে মাচাদোর দেশে ফেরার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সিএনএনকে জানান, তিনি এ বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতেন না। ট্রাম্প বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না, তবে তিনি অত্যন্ত ভালো একজন নারী। তিনি আমাকে তার নোবেল মেডেল উপহার দিয়েছিলেন। তাই আমি আর কী-ই বা বলতে পারি? আমি আশা করি তিনি নিরাপদে আছেন।

উল্লেখ্য, নিজের দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে অবদানের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন মাচাদো। গত বছরের ডিসেম্বরে পুরস্কার গ্রহণ করতে নরওয়েতে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন।

এর মাঝে গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক অভিযানের মুখে ভেনেজুয়েলার একচ্ছত্র শাসক ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন। পরবর্তীতে দেশটিকে একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও রাজনৈতিক সমঝোতার দিকে এগিয়ে নিতে মার্কিন প্রশাসন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ শুরু করে। তবে মার্কিনদের নেতৃত্বাধীন এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার প্রথম সারির বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে যুক্ত করা হলেও মাচাদো এবং এডমুন্ডো গঞ্জালেসকে বাইরে রাখা হয়।

মাচাদো বারবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন এবং নতুন কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তার উপদেষ্টাদের মতে, গত কয়েক মাসে অন্তত সাতবার দেশে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা করেন মাচাদো।

মাদুরোর পতনের পর ট্রাম্প মাচাদোর প্রশংসা করলেও দাবি করেছিলেন, দেশ পরিচালনা করার মতো রাজনৈতিক সমর্থন বা সম্মান ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে তার নেই। পরিবর্তে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে। রদ্রিগেজ ইতোমধ্যে শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়াসহ মার্কিন জ্বালানি ও তেল কোম্পানিগুলোর জন্য ভেনেজুয়েলার বাজারে বিনিয়োগের পথ সহজ করেছেন।

আগস্ট মাসের শেষভাগে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত খনিজ তেল সম্পদের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে চুক্তি স্বাক্ষর করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মাচাদো শুরু থেকেই দেলসি রদ্রিগেজের এই সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটনের এমন চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

চলতি বছরের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে রদ্রিগেজ দ্রুত ভেনেজুয়েলায় নতুন নির্বাচন ও পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে নির্বাচন ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা অন্তর্বর্তী সরকার বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।