News update
  • Former Speaker Jamir Uddin Sircar passes away      |     
  • Argentina Beat Switzerland to Reach Semifinals     |     
  • Iran Closes Strait of Hormuz After Vessel Incident     |     
  • England Edge Norway to Reach World Cup Semifinals     |     
  • 360 Students Killed in Road Crashes in Six Months     |     

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের স্পিকার: ‘একতরফা চুক্তির যুগ শেষ’

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-07-12, 12:20pm

img_20260712_121552-558413611f4e586253fa9a3a380308381783837207.jpg




হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। রোববার রাতভর ইরানে হামলার পর উসাগরীয় অন্তত পাঁচটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্দা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে ইরানের প্রধান আলোচক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতি বলেন, ‘একতরফা চুক্তির যুগ শেষ। আমরা আগেই বলেছিলাম—প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, না হলে মূল্য দিতে হবে। বাস্তবতা এখন আপনার দরজায় কড়া নাড়ছে।’

পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের একটি ছবি সংযুক্ত করেন ইরানের স্পিকার।ওই অনুচ্ছেদে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে’—এই অংশটি বিশেষভাবে হাইলাইট করা ছিল।

সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার সূত্রপাত হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধের জেরে।

রোববার হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী একটি জাহাজে ইরানের হামলার পর দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলার পরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, চলতি সপ্তাহে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সর্বশেষ হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটি আর যাত্রা চালিয়ে যেতে পারেনি। এছাড়া জাহাজের এক বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানিয়েছে তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার জন্য জবাবদিহির পরও সমঝোতা স্মারক মেনে চলার আরেকটি সুযোগ ইরানকে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আবারও তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডান, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

রোববার সকালে পৃথক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। হামলায় ঘাঁটির যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়েছে দাবি তাদের।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতারের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তারা জানায়নি।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার এবং একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা (কমিউনিকেশন সিস্টেম) এবং একটি রাডার স্থাপনায়ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইরানের দাবি, হামলায় ঘাঁটির কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোন রাখা হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।