News update
  • Belgium beats US 4-1 to reach World Cup quarterfinals     |     
  • Merino Sends Spain Through, Ends Ronaldo's World Cup     |     
  • নিম্নচাপ: কলাপাড়া উপকূলে বৃষ্টিপাত, পায়রা বন্দরে ০৩ নম্বর সতর্ক সংকেত     |     
  • Indices edge up on DSE, CSE but turnover declines on Monday     |     

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় চাপে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-05-19, 9:45am

pak-iran-735ca31ff22a84146faf739b0054560a1779162324.jpg




ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও গভীর হওয়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান। তবে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখার প্রচেষ্টা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামান্য ভুল পদক্ষেপও নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তান কূটনৈতিক যোগাযোগ সচল রাখতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান হুমকি ও তেহরানের কঠোর অবস্থানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। খবর আল জাজিরার। 

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শনিবার (১৬ মে) দুই দিনের সফরে তেহরানে পৌঁছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। গালিবাফই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এগোতে না পারলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

একই সময়ে ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ জাতীয় নিরাপত্তা টিমের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তবে তেহরানের বক্তব্য ভিন্ন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন নতুন কিছু সংশোধিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ইরানও তার জবাব একই চ্যানেলে পাঠিয়েছে বলে জানান তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ মুক্ত করা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ বছরের জন্য বন্ধ রাখা, প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া এবং নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা।

ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের অধিকার এবং এ বিষয়ে কোনো আপস হবে না। দেশটি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালির প্রশ্ন সমাধান ছাড়া পরমাণু আলোচনা এগোবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান এখনও অত্যন্ত গভীর। তেহরান চায় দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, আর ওয়াশিংটন চাপ প্রয়োগ করে সর্বোচ্চ ছাড় আদায় করতে চাইছে।

এদিকে সপ্তাহের শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরে ড্রোন হামলা এবং সৌদি আরবের আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশ নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পাকিস্তান এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।