
২০২৫ সালে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সারা দেশে মোট ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১০২ জন নিহত হয়েছে। একই সময়ে এক হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র নিখোঁজ হয়েছে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) টিআইবির কনফারেন্স রুমে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই সব তথ্য তুলে ধরা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনের মধ্যেই দেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষ করে গত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়া, উপদেষ্টাদের দলীয়করণ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংশয় ও মতবিরোধের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ৪৬টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে অন্তত ২৭টি রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় ১২ হাজার ৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারে অনুপযোগী রয়েছে।
ইলেকশন কমিশন কর্তৃক প্রাথমিকভাবে বাছাই করা ৭৩টি পর্যবেক্ষক সংস্থার অনেকগুলোই ‘নামসর্বস্ব’ বা সক্ষমতাহীন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
টিআইবির নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রতিটি বড় রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আচরণবিধি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের শক্ত অবস্থানের ঘাটতি রয়েছে।
প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে হলফনামায় দাখিল করা তথ্য যাচাই করার সক্ষমতা ও ব্যবহার নিয়েও ঘাটতির কথা বলা হয়।