News update
  • New BSEC chairman commits to IPO reform, digitalisation     |     
  • Depositors Forum gives Islami Bank chairman 24 hours to step down     |     
  • Dengue becomes another health emergency amid measles crisis     |     
  • Earthquake with epicentre in Bhutan jolts Bangladesh     |     
  • Revenue Gap, Banking Crisis Threaten FY27 Budget: Experts     |     

হামে শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূস, নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক রোগবালাই 2026-06-08, 2:44pm

soja_0-1-b1c6b62f215523e2b770ed3bba8e85161780908286.jpg




অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালত এ মামলার আবেদন খারিজ করে দেন। 

এর আগে, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে একই আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল এই মামলার আবেদন করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতের চরম অবহেলা, ভুল নীতি ও সিদ্ধান্তগত ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

আরজিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার ঘটে, যার ফলে অন্তত ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং সরকারি হিসাবেই ৬১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাজারো শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার এই পরিস্থিতি সাধারণ অবহেলার সীমা ছাড়িয়ে গুরুতর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের সহায়তায় হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন ধরনের জরুরি টিকা সংগ্রহ করে আসছিল। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা আমদানির সেই প্রচলিত ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। এর পরিবর্তে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়, যা দেশে ভয়াবহ টিকার সংকট তৈরি করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামের ভ্যাকসিন আমদানিতে বিলম্ব ঘটিয়ে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন এবং নাগরিকদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করেছেন বলেও আরজিতে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স গত ২০ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য টিকা সংকট নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করার কথা জানিয়েছিলেন। বিদ্যমান টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থা বহাল রাখার পরামর্শ দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা গুরুত্ব দেয়নি। এই টিকার ঘাটতির কারণে বিপুলসংখ্যক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ঘটে। সরকারি হিসাবের বাইরেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও বহু শিশু আক্রান্ত হয়েছে, যা সরকারি পরিসংখ্যানে স্থান পায়নি। এই পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্র ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

কয়েকটি শিশুর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে আরজিতে দাবি করা হয়, টিকা সংকট ও হামের বিস্তারের সঙ্গে এসব মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকা সরবরাহের ব্যবস্থা নিলেও, সময়মতো টিকা না পাওয়ার কারণে যে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এড়াতে পারেন না। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।