News update
  • Jungle Salimpur RAB, police camp attack; joint operation on     |     
  • Islami Bank Chairman Resigns Amid Internal Pressure     |     
  • Seven-Day Eid Holiday Begins Monday Across Bangladesh     |     
  • Rain likely to continue through Eid holidays: Met Office     |     
  • Dhaka expects Delhi to extradite Hasina under existing treaty: Salahuddin     |     

হাম এড়াতে ঈদে শিশুদের নিয়ে সতর্কভাবে চলাচলের পরামর্শ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক রোগবালাই 2026-05-25, 11:14am

haam-882a4c7ad9415419ed89ce781cdf621f1779686077.jpg




ঈদকে সামনে রেখে গণপরিবহণে বাড়তি ভিড়, অবাধ যাতায়াত, বাড়তি জনসমাগম, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া-আসা এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কারণে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

একই সাথে ঈদ যাত্রায় শিশুদের নিয়ে বাস, লঞ্চে না উঠে সম্ভব হলে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াতের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও হাম সংক্রমণ এড়াতে ঈদের সময় শিশুদের নিয়ে সতর্কভাবে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাস ও ট্রেনযাত্রা এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আপনাদের অনুরোধ করছি, ঈদের সময় শিশুদের যেন সব জায়গায় নিয়ে না যাওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা অতিরিক্ত ভিড় রয়েছে, এমন জায়গায় না নেওয়াই ভালো।’ 

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের কাছ থেকে সুস্থ শিশুদের দূরে রাখতে হবে। একইভাবে আক্রান্ত রোগীদেরও অন্যদের সঙ্গে মিশতে দেওয়া উচিত না। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হামের জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর উপসর্গ স্পষ্ট হওয়ার আগেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই ঈদযাত্রা, শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্র ও পারিবারিক সমাবেশ সংক্রমণ বৃদ্ধির বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা প্রদান। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, জ্বর বা র‌্যাশ দেখা দিলে জনসমাগম এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ঈদ বা বড় উৎসবের সময় সতর্কতা আরো বেশি প্রয়োজন, কারণ এ সময় মানুষের চলাচল ও ভিড় বেড়ে যায়।

জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বাসসকে বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবার তাদের গ্রামের বাড়ি যাতায়াত করবেন। এ সময় সংক্রমণ ছড়ানোর ঝঁকি তৈরি হবে। তাই অভিভাবকদের বলব, যেসব শিশু শারীরিকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে বা কিছুটা অসুস্থ, তাদের নিয়ে এই ঈদে ভ্রমণ না করাই উত্তম। এতে ওই শিশুর নিজের যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, তেমনি তার সংস্পর্শে আসা সুস্থ শিশুরাও ঝুঁকিতে পড়বে। যেসব শিশু অপুষ্টি বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতায় ভুগছে, তাদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি ভ্রমণ থেকে বিরত থাকাই ভালো।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বাসসকে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শরীরে হামের জীবাণু প্রবেশের পর শুরুতে শুধু হালকা জ্বর দেখা দেয়, কিন্তু তখনো তীব্র উপসর্গ প্রকাশ পায় না। এ সময় থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ফলে অজান্তেই পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষ ঝুঁকিতে পড়ে। এ কারণে ঈদযাত্রা ও বড় ধরনের জনসমাগমের ফলে এ সংক্রমণ আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, হাম অতিসংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত আক্রান্তের হাঁচি, কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। হামের ভাইরাস এতটাই সংক্রামক যে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২-১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। সাধারণত র‌্যাশ ওঠার চারদিন আগে ও পরে আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রমণ ছড়াতে পারে। হামের ভাইরাস বাতাসে বা কোনো কক্ষের পরিবেশে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।

ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো ঘরে অবস্থান করার পর সেখানেও অন্যরা সংক্রমিত হতে পারে। বিশেষ করে গণপরিবহন, স্কুল, বাজার, হাসপাতাল, শপিং মল, কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

হামের সংক্রমণের মধ্যে শিশুদের নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বাসস’কে বলেন, স্বাভাবিকভাবেই ঈদের সময়ে বড় ধরনের জনসমাগম হয়। বাস, ট্রেন, লঞ্চ এবং বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে মানুষের ভিড় বাড়ে। ঈদের জামাতে শিশুদের মাস্ক পরানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সচেতন না হলে অনেক সংখ্যক শিশু হামে আক্রান্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম রাশেদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, বিভিন্ন গ্রামে বা শহরে যারা টিকা পায়নি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকবে। আমরা, যারা সাধারণ জনগোষ্ঠী, যারা আগে থেকেই আমরা হামের ভ্যাকসিন পেয়েছি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা অনেক কম এবং নাই বললেই চলে।