
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্য সরকার গঠনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাব নাকচ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অবস্থানের কথা জানান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দুই দশক পর গত ডিসেম্বরে তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন। তরুণদের নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি এখন আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করে। এবারও জামায়াত নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীলতার স্বার্থে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয়।
তবে দলীয় কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন, আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল থাকবে কারা? তিনি আশা প্রকাশ করেন, জামায়াত যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে তারা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
বিএনপি নেতাদের দাবি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাবে দলটি। বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকিগুলো জোটসঙ্গীরা লড়ছে। যদিও নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ করেননি তারেক রহমান। তবে তিনি বলেন, সরকার গঠনের মতো আসন আমরা পাব—এ বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও জামায়াত-সমর্থিত জোট কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রনীতি: ভারসাম্যের বার্তা
শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে চীনের প্রভাব বাড়ছে-এমন প্রশ্নে তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন, বাংলাদেশ কারও দিকে ঝুঁকবে না, বরং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ১৭ কোটি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। যে দেশ আমাদের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে উপযোগী সহযোগিতা দেবে, তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব থাকবে—কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।
শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নে তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন, জনগণ গ্রহণ করলে যে কেউ রাজনীতি করার অধিকার রাখে। তবে আওয়ামী লীগ বর্তমানে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নিষিদ্ধ।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে অবস্থান
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেও নিজস্ব সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে।
এ বিষয়ে তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তনই চূড়ান্ত লক্ষ্য। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবেন। তিনি বলেন, আমরা চাই তারা নিজেদের দেশে ফিরুক, তবে পরিবেশ নিরাপদ হতে হবে। নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তারা এখানে থাকতে স্বাগত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনকে ঘিরে দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পথরেখা কোন দিকে এগোবে।