News update
  • US to Pause Immigrant Visas for 75 Countries Including Bangladesh     |     
  • 11-Year Run of Record Global Heat Continues: UN Agency     |     
  • Gaza Ceasefire Not Enough as Children Continue to Die     |     
  • Bangladesh Sets Guinness Record With 54 Flags Aloft     |     
  • Gambia Tells UN Court Myanmar Turned Rohingya Lives Hell     |     

ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই জোটের বৈঠকে বসেছে জামায়াত 

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক রাজনীতি 2026-01-15, 3:43pm

rtertertre-1a037ca451c6782b4080f33786bdb8641768470229.jpg




কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটসঙ্গীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ বৈঠকে অংশ নেয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেউ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে শুরু হওয়া বৈঠকের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে দলগুলোর পক্ষ থেকে কিছু জানানো না হলেও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল। 

এদিকে বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমাদ আব্দুর কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

বৈঠকে নিজেদের কোনও নেতা নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে আমাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। তবে, সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। জোটে থাকা না থাকার বিষয়টি পরবর্তীতে জানানো হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে এবং দলের ভেতরে একাধিক স্তরে বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। একই ধরনের অবস্থান মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসেরও।

গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ আসন সমঝোতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করলেও পরে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তা স্থগিত করা হয়।

পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অনুরোধে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পৃথকভাবে একটি বিবৃতি দেয়।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও আমার বাংলাদেশ পার্টি জোটে যোগ দেয়। পরবর্তীতে দলগুলো স্বতন্ত্রভাবে ৩০০ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়।

জোটের কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা জানান, শুরুতে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আসন সমঝোতার নীতি থাকলেও পরে কয়েকটি দল নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা দাবি করতে শুরু করে। এতে ইসলামী আন্দোলন ৭০টির বেশি আসন চাইলে জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫টি আসন দিতে রাজি হয়।

এছাড়া, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস ২৫টি আসনে নির্বাচন করতে চাইলেও জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ১৫টি আসন দিতে চায়। অন্য নয়টি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হলেও ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফতে মজলিসের সঙ্গে এখনও আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি।

এছাড়া, জোটের নেতারা জানান, জামায়াত কিছু সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়েছে, যা অন্য দলগুলো ভালোভাবে নেয়নি। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও আমার বাংলাদেশ পার্টিকে আসন সমঝোতায় আনার ক্ষেত্রে জামায়াত তাদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করে, যা আগে অন্য শরিকদের জানানো হয়নি। এতে অসন্তোষ তৈরি হয়।

এদিকে জোটের অভ্যন্তরে অস্থিরতা ও ভাঙনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বগুড়া-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নূর মোহাম্মদের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। বুধবার দুপুরে তিনি তার ভেরিফাইড প্রোফাইলে লেখেন, ‘হ্যাঁ, সত্য এটাই— ১১ দলের সমঝোতা ভেঙে যাচ্ছে।’

নূর মোহাম্মদ তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ইসলামি আন্দোলন গত রাতে তাদের মজলিসে শুরা এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীদের ডেকে মতামত নিয়েছে। সেখানে অধিকাংশ সদস্যই জোটের সমঝোতা থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

সমস্যার মূল কারণ ব্যাখ্যা করে নূর মোহাম্মদ লিখেন, ইসলামী আন্দোলনকে সমঝোতায় চূড়ান্তভাবে ৪৫টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের দাবি এখন ৬৫-৭০ আসনের মতো। নির্বাচন পরবর্তী সরকার কাঠামো নিয়েও স্পষ্ট ঘোষণা চায়। সরকার গঠিত হলে কে কোথায় থাকবে, এগুলো স্পষ্ট চায়। ইতোমধ্যে অনেককিছু স্পষ্ট করা হয়েছে, যেগুলো আরও স্পষ্ট করা দরকার, সেগুলো নিয়ে আলাপ হতে পারে।

তিনি আরও জানান, ইসলামি আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের ওপর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। জোটের কারণে অনেক আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার করায় ওই সব এলাকার নেতাকর্মীরা নাখোশ, যা শীর্ষ নেতৃত্বকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করছে।