News update
  • President Mohammed Shahabuddin Resigns     |     
  • Experts Call for Better Flood Forecasting, Urban Planning     |     
  • Fakhrul Urges Public to Ignore Resignation Rumours     |     
  • President Shahabuddin Set to Resign Today: Agency     |     
  • Trade Deficit Widens 24% Despite Record Remittances     |     

যে কারণে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

রাজনীতি 2026-07-24, 5:33pm

untitled-6a6340a8a869d-d739dcfcfbdd3fa06a36fd861bf49caa1784892828.jpg




বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি জানান, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি সংবিধান রক্ষা এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতির কারণে তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তাঁর শরীরে অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি (Autonomic Neuropathy) নামে একটি বিরল স্নায়বিক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন, যা স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। তাই দেশের স্বার্থ, সংবিধানের মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই সময় দেশে সৃষ্ট সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত গ্রহণ করে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের পথ সুগম করতেও ভূমিকা রাখেন।

রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, সে সময় তাঁর গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দেশে বড় ধরনের সাংবিধানিক সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা বজায় ছিল।

চিঠির শেষাংশে তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।