
দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপের একক মুদ্রা ‘ইউরো’র যুগে প্রবেশ করল বলকান দেশ বুলগেরিয়া। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ২০২৬ সালের প্রথম প্রহরে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোজোনের ২১তম সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। রাজধানী সোফিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবনে যখন ইউরো প্রতীকের আলোকসজ্জা ও আতশবাজি চলছিল, তখন এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয় ইউরোপ। এর মাধ্যমে দেশটির নিজস্ব মুদ্রা ‘লেভ’ চিরতরে বাতিল হয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল। খবর আলজাজিরার।
বুলগেরিয়ার এই অন্তর্ভুক্তির ফলে ইউরো ব্যবহারকারী ইউরোপীয় নাগরিকের সংখ্যা এখন ৩৫ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ক্রোয়েশিয়া এই জোনে যোগ দিয়েছিল। এখন থেকে বুলগেরিয়া ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে। যদিও এই প্রাপ্তির পেছনে দেশটির ৬৭ লাখ মানুষের মনে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পর থেকেই বুলগেরিয়া ইউরো গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই ছিল দেশটির প্রধান লক্ষ্য। তবে মুদ্রাস্ফীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই প্রক্রিয়া কয়েক দফায় পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের প্রথম দিনে দেশটি তাদের পুরনো মুদ্রা ‘লেভ’কে বিদায় জানিয়ে ইউরোর শক্তিশালী অর্থনীতিতে নিজেদের নাম লেখাল।
বুলগেরিয়া এখন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার নির্ধারণকারী গভর্নিং কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ আসন পাবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরো গ্রহণের ফলে বুলগেরিয়ার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও ব্যবসায়িক লেনদেনে বড় ধরণের পরিবর্তন আসবে। যদিও বাজারমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কায় দেশটির জনগণের একটি অংশ এখনো দ্বিধাগ্রস্ত, তবুও ব্রাসেলসের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে ইউরোপীয় ঐক্যের এক বিশাল জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।