News update
  • Strong El Nino to dominate global climate in late 2026: WMO     |     
  • July Mass Uprising Day Today     |     
  • PM Inaugurates July Mass Uprising Memorial Museum     |     
  • BGMEA, OCAIB move to attract Chinese investment in RMG sector     |     

মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক মিডিয়া 2026-05-23, 7:10am

tulsii_gyaabaardd_thaamb-da9c3e842e2fa0d85e89e26ee45d79991779498643.jpg

তুলসী গ্যাবার্ড। ছবি : এএফপি



যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে স্পষ্টত মতবিরোধে থাকা এই ভিন্নমতাবলম্বী নেত্রীর মেয়াদের অবসান ঘটল।

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করা ট্রাম্পের কাছে লেখা এক চিঠিতে তুলসী গ্যাবার্ড জানান যে, তাঁর স্বামীর একটি বিরল ধরনের ক্যান্সার ধরা পড়ায় তাঁর যত্ন নেওয়ার জন্য তিনি জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের কাছে বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করার দায়িত্বে থাকা গ্যাবার্ড চিঠিতে লেখেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আগামী ৩০ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া আমার পদত্যাগপত্র আমাকে জমা দিতে হচ্ছে।’ ৪৫ বছর বয়সী গ্যাবার্ড আরও যোগ করেন, ‘আমার স্বামী আব্রাহামের সম্প্রতি অত্যন্ত বিরল ধরনের একটি হাড়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। আগামী সপ্তাহ এবং মাসগুলোতে তাঁকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই সময়ে তাঁর পাশে থাকার জন্য এবং এই লড়াইয়ে তাঁকে সম্পূর্ণ সমর্থন দিতে আমাকে জনসেবামূলক কাজ থেকে দূরে সরে যেতে হচ্ছে।’ খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

পদত্যাগের এই ঘোষণার পর তুলসী গ্যাবার্ডের প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল নেটওয়ার্ক 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ বলেন, ‘তুলসী অবিশ্বাস্য রকমের চমৎকার কাজ করেছেন এবং আমরা তাঁকে মিস করব।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্বামীকে সাহায্য করার যে সিদ্ধান্ত তুলসী নিয়েছেন তা ‘যৌক্তিক’। প্রেসিডেন্ট জানান, তাঁর ডেপুটি অ্যারন লুকাস ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সাবেক ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্যাবার্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল গোয়েন্দা ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য চমকপ্রদ পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন; কারণ অতীতে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর প্রশ্ন তোলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানের ইতিহাস রয়েছে। একজন কংগ্রেস সদস্য হিসেবে গ্যাবার্ড বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। ২০১৭ সালে সিরিয়ার তৎকালীন (বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত) নেতা বাশার আল-আসাদের সাথে তাঁর বৈঠক এবং ক্রেমলিনের প্রোপাগান্ডা—বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর কারণে তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

একজন ইরাক যুদ্ধ ফেরত সৈনিক

মার্কিন সরকারের নজরদারি সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ)-এর তথ্য ফাঁসকারী এডওয়ার্ড স্নোডেনের প্রতি তাঁর সমর্থনের কারণেও কেউ কেউ তাঁকে সন্দেহের চোখে দেখতেন। কংগ্রেসের উভয় পক্ষই (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) মনে করত যে, স্নোডেনের ওই পদক্ষেপ আমেরিকানদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল।

তা সত্ত্বেও ট্রাম্প তাঁকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন; তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান যুদ্ধের দিকে এগোনোর সাথে সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে গ্যাবার্ডকে ক্রমেই দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছিল বলে মনে করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলা শুরু করার ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্প যখন তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের সাথে বৈঠকে বসেছিলেন, তখন গ্যাবার্ড সেই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ শুরুর পক্ষে যে সমস্ত যৌক্তিকতা তুলে ধরেছিল, গ্যাবার্ড বারবার সেগুলোর বিপরীত কথা বলেছেন অথবা পুরোপুরি সমর্থন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ইরান একটি আসন্ন হুমকি ছিল—ট্রাম্পের এই দাবিকে সমর্থন করতে তিনি বারবার অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, অথচ প্রশাসন এই মূল্যায়নটিকে হামলার যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করেছিল। কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ প্রেসিডেন্টের।

তুলসী গ্যাবার্ড আরও বলেছিলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে, ইরান তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা (যা গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধ্বংস করে দিয়েছিল) পুনরায় তৈরি করছে না—যদিও এটিকেও যুদ্ধের একটি বড় যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

হাওয়াইয়ের বাসিন্দা গ্যাবার্ড আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের হয়ে ইরাকে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই অভিজ্ঞতাই আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী বিদেশি যুদ্ধগুলোর প্রতি তাঁর বিরোধিতার জন্ম দেয়, ঠিক যেমনটি হয়েছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথের ক্ষেত্রেও।

গ্যাবার্ড হিন্দু রীতি অনুযায়ী হাওয়াইয়ের সিনেমাটোগ্রাফার (চিত্রগ্রাহক) আব্রাহামের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গ্যাবার্ডের নির্বাচনি প্রচারণার বিজ্ঞাপন শ্যুটিংয়ের সময় তাঁদের পরিচয় হয়েছিল এবং সূর্যাস্তের সময় সার্ফিং করার ক্ষণটিতে আব্রাহাম তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া গ্যাবার্ডের মা হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর সন্তানদেরও এই ঐতিহ্যেই বড় করেন। তাঁর প্রথম নাম 'তুলসী' হিন্দু ধর্মে একটি পবিত্র উদ্ভিদ এবং তিনি আজীবন নিরামিষভোজী।