News update
  • Bangladesh to Introduce New Law to Curb Extortion, IGP Says     |     
  • UN Marks 81 Years of Global Cooperation and Peace     |     
  • Dhaka's air 5th worst in the world this morning     |     
  • Around 7,500 Bangladeshis imprisoned in Saudi Arabia: Shama Obaed     |     
  • Bangladesh Outperforms India in Global Hunger Index 2026     |     

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে পাহাড়ে আবারও ফিরছে শিক্ষার আলো

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বিবিধ 2026-08-12, 11:09pm

img_20260812_230551-d363e3e8f09cde0757dbce044a1073ec1786554543.jpg




পার্বত্য বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—‘সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।’ এখানে দুর্গম এলাকার অর্ধশতাধিক শিশু শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। গত জুলাই মাসের প্রথম দিকে টানা ভারী বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের ভবনটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যালয়টি শ্রেণী কার্যক্রম।

স্থানীয় একজন ছাত্রনেতা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে আনেন। সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হয় উদ্যোগ—১০ লাখ টাকায় নির্মিত হচ্ছে নতুন ভবন। চলতি মাসেই বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হবে, এতে দুর্গম পাহাড়ে আবারও বেজে উঠবে—‘স্কুলঘণ্টা।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এমন উদ্যোগে স্থানীয় অভিভাবকরা বেজায় খুশি। নয়াপাড়ার বাসিন্দা চাই হ্লা মং মারমা বাসসকে বলেন, দুর্গম এলাকার স্কুল বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে, ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে পড়েছিল। ভেবেছিলাম স্কুল তো আর হবে না। কিন্তু সরকার খবর পেয়ে তাড়াতাড়ি স্কুলঘর নির্মাণ করছে দেখে ভালো লাগছে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দ্রুত উদ্যোগের কারণে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের শিক্ষার অন্যতম আশ্রয়স্থলটি আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর পথে। ভবনের কাজ শেষ হলে পাহাড়ের ঢালে আবারও মুখর হবে শিক্ষার্থীদের কোলাহল, ফিরে আসবে পাহাড়ে গহিনে ‘শিক্ষার আলো।’

জানা গেছে, ‎নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২২ সালে। এখানে স্কুলে পাঠদানের পাশাপাশি ছিল আবাসিক ব্যবস্থাও। কিন্তু ভারী বৃষ্টিতে ভবনটি তছনছ হয়ে যায়। ‎বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক রয়েছেন।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন জানান, স্কুল ভবন বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিষয়টি আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নূরুল ছাফার নজরে আসে। তিনি মুঠোফোনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহকে (সাইয়েদ আবদুল্লাহ) অবহিত করেন। তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবিলম্বে সমাধানের উদ্যোগ নেন। 

প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি আসে। পরে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলমের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়টি পুনঃর্নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বিদ্যালয় ও হোস্টেল পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। গত ২৩ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যালয় ও হোস্টেলটি পাহাড়ি স্থাপত্যের আদলে নির্মাণ করা হবে।

আলীকদম উপজেলার সমাজকর্মী ইসমাইল হাসান বাসসকে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের কাজ বরাবরই নানা চ্যালেঞ্জের। তার ওপর প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তবে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগে পুনর্নির্মাণ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও কলেজ শিক্ষক মো. নূরুল ছাফা বাসসকে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করা। একটি স্কুল পুনর্নির্মাণ মানে শুধু একটি ভবন তৈরি নয়, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার সুযোগ তৈরি করা, এদের শিক্ষা এবং দক্ষতার উপর ভর করেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর বিশেষ সহকারীকে ধন্যবাদ জানান।’

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা বলেন, গত মাসের দিকে প্রবল বৃষ্টিপাত হয় তখন বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়ায় আমাদের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। সরকারিভাবে দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এ উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

পাড়া কারবারি (পাহাড়ি গ্রাম প্রধান) দমলয় মুরুং বাসসকে বলেন, এখানে আমরা ৪টি গ্রামের লোকজন বসবাস করি। এখানে ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা করার জন্য কোনো স্কুল ছিল না। এই স্কুলটি ছিল একমাত্র আশার জায়গা। কিন্তু বৃষ্টিতে স্কুলটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এখন আবার স্কুলটি গড়ে উঠছে এটা আমাদের জন্য শুধু একটি ভবন নয়, আমাদের সন্তানদের স্বপ্ন ফিরে পেয়েছি। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলম বাসসকে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।