
ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। আহত হয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া ঘরছাড়া হয়েছেন সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষ। উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে ব্রাজিল, স্পেন, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল। এই দুর্যোগে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৭২ ঘণ্টা আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন এক বৃদ্ধা। স্থানীয় সময় শনিবার লা গুয়াইরায় স্পেনের মিলিটারি ইমার্জেন্সি ইউনিট এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। এর আগে একই এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নবজাতক ও তার মাকে জীবিত উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। পাশাপাশি কলম্বিয়ার উদ্ধারকারী দল ১১ বছর বয়সী এক কিশোরকে জীবিত বের করে আনে।
সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ততই কমে আসছে। হাজারো পরিবার এখনও প্রিয়জনের অপেক্ষায় ধ্বংসস্তূপের পাশে দিন কাটাচ্ছে। ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে ইতালি, ব্রাজিল ও স্পেন থেকে এরই মধ্যে ১ হাজার ৬০০-এর বেশি বিদেশি উদ্ধারকর্মী পৌঁছেছেন।
তবে লা গুয়াইরায় অন্তত ১০০টি ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং ভারী যন্ত্রপাতির সংকট থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশও সীমিত করেছে কর্তৃপক্ষ। মূল দুই ভূমিকম্পের পর আরও ৪৩০টির বেশি পরাঘাত (আফটারশক) রেকর্ড করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর উপকূলের লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখনও জীবিতদের খোঁজ চলছে। সরকার জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যটির বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ৬০ শতাংশ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। কলম্বিয়া, কোস্টারিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সতর্ক করেছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। রাজধানী কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জরুরি আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা, স্যানিটেশন এবং খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন দ্রুত বাড়ছে। সংস্থাটি বলছে, তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও ভেনেজুয়েলাবাসীর সামনে অপেক্ষা করছে দীর্ঘ পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কঠিন পথ।