
গত বিশ্বকাপে শুরু হওয়া দ্বৈরথ এই আসরেও টেনে এনেছেন লিওনেল মেসি আর কিলিয়ান এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে দুজন পাল্লা দিয়ে গোল করছেন। গত রাতে (৩১ জুন) শেষ ৩২ এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। দলকে রাউন্ড অব ১৬–এ তোলার পথে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেলেছেন এই ফরাসি সুপারস্টার। চলতি আসরে মেসির সমান ৬ গোল এমবাপ্পের। যদিও শনিবার (৪ জুলাই) কেপ ভার্দের বিপক্ষে ফের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে আর্জেন্টাইন মহাতারকার।
চলমান আসর নকআউট পর্বে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইও জমে উঠেছে। শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি মেসি এবং ফ্রান্সের তারকা এমবাপ্পে সমানতালে লড়াই করছেন। তাদের ঠিক পেছনেই রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হলান্ড এবং ব্রাজিলের ভিনিসিউস জুনিয়র।
কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে। ৭ গোল নিয়ে তার পেছনেই ছিলেন মেসি। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত দুজনের গোল সমান হলেও গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইয়ে এমবাপ্পেই এগিয়ে। এর নেপথ্যে আছে অবশ্য ফিফার নীতিমালা।
নিয়ম অনুযায়ী, যদি টুর্নামেন্ট শেষে দুই বা ততোধিক খেলোয়াড় সমান সংখ্যক গোল করেন, তাহলে যার অ্যাসিস্ট বেশি তিনিই পাবেন এই সোনার জুতা। আর গোল এবং অ্যাসিস্ট দুটিই সমান হলে অপেক্ষাকৃত কম মিনিট খেলা খেলোয়াড়ই পাবে পুরস্কারটি। চলমান আসরে ৬ গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন এমবাপ্পে। মেসির সমান গোল থাকলেও কোনো অ্যাসিস্ট নেই।
২০২৬ বিশ্বকাপের বর্তমান সর্বোচ্চ গোলদাতারা:
* কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স) — ৬ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
* লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) — ৬ গোল, ০ অ্যাসিস্ট
* আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে) — ৫ গোল, ০ অ্যাসিস্ট
* ওসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স) — ৪ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
* ভিনিসিউস জুনিয়র (ব্রাজিল) — ৪ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে যদি সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন ধরে রাখতে পারেন, তবে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতার কৃতিত্ব দেখাবেন। চলমান বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন এমন আরও দুজন খেলোয়াড়ের সামনে এই সুযোগ রয়েছে। তারা হলেন–হ্যারি কেন এবং হামেস রদ্রিগেস। কলম্বিয়ান তারকা হামেস ২০১৪ বিশ্বকাপে ৬ গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন। আর কেন জিতেছিলেন ২০১৮ বিশ্বকাপে। তবে চলতি আসরে গোল সংখ্যায় মেসি বা এমবাপ্পেকে ছোয়া তাদের জন্য খুবই কঠিন হবে। বাস্তবতা বিচার করলে চলতি আসরে এমবাপ্পে ছাড়া কারোরই এই সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, মেসি দুইবার বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল জিতলেও কখনোই সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারেননি। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে এই একটি অর্জনও নিজের নামের পাশে লিখতে চাইবেন তিনি।