News update
  • Dhaka, Beijing sign 13 MoUs to deepen cooperation across key areas     |     
  • China Eyes Teesta Project, Trade Boost With Bangladesh     |     
  • PM Tarique, Li Qiang Hold Bilateral Talks in Beijing     |     
  • Bangladesh’s external debt stands at $78.22 billion: Khosru     |     
  • PM invites Chinese cos to expand value chains into Bangladesh     |     

পর্যটকদের মুগ্ধ করে কুয়াকাটার ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও 'লাল কাঁকড়ার চর'

পর্যটন 2026-05-11, 12:32am

island-of-red-crabs-of-kuakata-captivates-tourists-499fa555c091959d6026a624e18188201778437975.jpg

Island of red crabs of Kuakata captivates tourists.



পটুয়াখালী: সাগরকন্যা কুয়াকাটা শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগের জন্যই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় নয়, এখন নতুন করে পর্যটকদের মাঝে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ খ্যাত মনোরম প্রাকৃতিক স্পট। এবং এর কাছেই অবস্থিত ‘লাল কাঁকড়ার চর’।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত সবুজ বনভূমি, লেক ও সমুদ্রের ঢেউয়ের অপূর্ব সম্মিলনে গড়ে ওঠা এক অনন্য নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গা। বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর, ছোট ছোট টিলা, নীল আকাশ ও নির্মল বাতাসের কারণে এক নৈস্বর্গিক আবহ বিরাজ করছে সেখানে।

এখানে এসে পর্যটকরা সবুজ প্রকৃতির মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘোরাঘুরি এবং নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেক ভ্রমণপিপাসু এখানে তাঁবু টাঙিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। এখানকার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হল একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল অভিজ্ঞতা।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক দম্পতি নিলু আবির বলেন, আমরা অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু এক জায়গা থেকে সূর্য ওঠা ও ডোবা দুটোই দেখা যায়—এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল। এখানকার পরিবেশ খুবই শান্ত ও মনোরম।

আরেক পর্যটক নিঝুম বলেন, মিনি সুইজারল্যান্ডে এসে মনে হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছি। এখানকার নীরবতা আর নির্মল বাতাস আমাকে বিমোহিত করেছে ।

স্থানীয় ট্যুর গাইড আবুল কালাম জানান, শুরুতে স্থানীয় কয়েকজন মিলে জায়গাটিকে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে ডাকতেন। পরে ভ্রমণব্লগার মি. লাক্সছু মোটরসাইকেলে করে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভিডিও ধারণ করেন। কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির লেকসহ আশপাশের দৃশ্য তার ভিডিওতে উঠে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই জায়গাটি দেশজুড়ে পরিচিতি পেতে শুরু করে।

মি. লাক্সছু বলেন, প্রথম যখন এখানে আসি, জায়গাটি তেমন পরিচিত ছিল না। চারদিকে সবুজ গাছ, নীল আকাশ আর সাগরের শান্ত ঢেউ দেখে মনে হয়েছিল—এ যেন বাংলাদেশের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক টুকরো সুইজারল্যান্ড। সেই ভাবনা থেকেই ব্লগে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামটি ব্যবহার করি।’

কুয়াকাটার আরেক আকর্ষণ ‘লাল কাঁকড়ার চর’। সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দৌড়ে বেড়ানোর দৃশ্য পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। আশপাশের সবুজ বনভূমি ও শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এলাকাটি ধীরে ধীরে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও 'লাল কাঁকড়ার চরকে' পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে কুয়াকাটায় পর্যটনের নতুন মাত্রা যোগ হবে। 

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি,পর্যটন ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, এখানে পরিকল্পিতভাবে ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে বেকার যুবদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের গাইড, নৌ-ট্যুর অপারেটর ও পর্যটনভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের পরিবার সমূহের  অর্থনীতির চাকা সচল হবে ।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসচেতন পর্যটকের কারণে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাউন্ড বক্স বাজানো, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা এবং ময়লা-আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে এই নিরিবিলি প্রকৃতির পরিবেশ।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও  সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, 'এই এলাকাকে ঘিরে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যটন স্পট গুলোর সড়ক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।'

 কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  কাউছার হামিদ বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পর্যটন প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। কুয়াকাটার মাস্টার প্লান 

বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। 

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে। - গোফরান পলাশ