News update
  • OPEC faces mounting pressure as officials meet in Vienna     |     
  • Locked in poverty and riverbank erosion: The reality of Kurigram     |     
  • DC conference 2026: 498 proposals set for policy review     |     
  • Govt moves to amend Const; opposition wants reform     |     
  • Govt Proposes 17-Member Panel for Constitution Reform     |     

ঢাক-ঢোল আর উলুধ্বনিতে চলছে দেবী দুর্গার আরাধনা, আজ মহাঅষ্টমী

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ধর্মবিশ্বাস 2024-10-11, 7:13am

img_20241011_071058-399a22dc034c2cf5f3b601ebfd51f09f1728609232.jpg




ঢাক-ঢোল, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ইতোমধ্যে মহাসমারহে শেষ হয়েছে মহাসপ্তমীর আনুষ্ঠানিকতা। আজ শুক্রবার (১১ অক্টোবর) মহাঅষ্টমী। এদিনের মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজা। এবার সন্ধিপূজা হবে সকালে। সকাল পৌনে ৭টা থেকে ৭টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে এ পূজা সম্পন্ন হওয়ার কথা।

মহাষ্টমীর দিন সকাল থেকেই দেবী দুর্গার মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হবে। সকাল ৯টার দিকে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে এ পূজা করেন ভক্তরা। এরপর দুপুরে বিতরণ করা হবে মহাপ্রসাদ।

হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত এক থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রীরাম কৃষ্ণের কথামতে, কুমারী পূজার বিষয়ে বলা হয়েছে—শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ্য।

শাস্ত্রমতে, এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুজ্বিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোতে রুদ্রানী, বারোতে ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দতে পীঠ নায়িকা, পনেরোতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে তাকে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।

নির্বাচিত কুমারীকে মহাষ্টমীর দিন ভোরে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। তাকে দেবীরূপে সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দেওয়া হয়। এরপর কুমারীকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপাচারে (ষোলো উপাদান) দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এ সময় শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি আর দেবী স্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে চারদিক।

সনাতন ধর্মমতে, নবমীর পুণ্য তিথিতে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে বিশ্বে শুভ শক্তির প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন দেবী দুর্গা। নবমী তিথি শুরু হয় সন্ধিপূজা দিয়ে। অষ্টমী এবং নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে দেবী দুর্গার আরাধনা পুজোই হলো সন্ধিপূজা। অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট সর্বমোট ৪৮ মিনিটে সন্ধিপূজা হয়। মূলত দেবী চামুণ্ডার পূজা করা হয় এ সময়। এ সময়েই দেবী দুর্গার হাতে বধ হয়েছিল মহিষাসুর, আর রাম বধ করেছিলেন রাবণকে। নবমীর দিনই দুর্গাপূজার অন্তিম দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, পরের দিন কেবল বিসর্জনের পর্ব। নবমীর রাতে উৎসব শেষ হয়। তাই মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের ঘণ্টা বাজে এ রাতে।

বিজয়া দশমীর দিন রবিবার বিকাল ৩টার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জনের কথা বলা হয়েছে। রাজধানীতে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়ে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকা মহানগরে এবার ২৫২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর পূজার আয়োজন হয়েছিল ২৪৮টি মণ্ডপে। সে হিসেবে এবার ঢাকা মহানগরে ৪টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে।

শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোর জন্য ২২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি। এগুলোর মধ্যে আছে—১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন করতে হবে। উচ্চ শব্দের মাইক, পিএসেট ও আতশবাজি-পটকার ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। ভক্তিমূলক বা ধর্মীয়সংগীত ব্যতীত অন্য কোনও গান বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কারও ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে—এরূপ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ইত্যাদিতে কেউ জড়িত হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে তাদের পুলিশে সোপর্দ করতে হবে। গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনও দুর্ঘটনার সংবাদ তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে হবে। যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাৎক্ষণিক প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করতে হবে প্রভৃতি। আরটিভি