
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকারকে এক বার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত জাতিসংঘ কার্যালয়।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এ বার্তায় নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের এ বার্তায় বলা হয়েছে, নির্বাচনে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সবার মৌলিক অধিকার। এর মধ্যে সব নারী বা মেয়ের অধিকার, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষসহ সমাজে যারা বেশি বাধা–বৈষম্য–লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকেন, তাদের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন নারী সংগঠনসহ নাগরিক সমাজ নারী প্রার্থী ও ভোটারদের বিরুদ্ধে সহিংসতা–হয়রানি, বিশেষ করে অনলাইন সহিংসতা নিয়ে যে উদ্বেগ জানিয়েছে, সে বিষয়ে বিশ্বসংস্থাটি সচেতন বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশে অবস্থিত জাতিসংঘ কার্যালয়।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতা–কর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকার রক্ষাকারীসহ জনজীবন–সংশ্লিষ্ট কাজে কর্মরত নারীরা জানাচ্ছেন, সাইবার বুলিং, ডিপফেক, পরিকল্পিত হয়রানি ও ছবি বিকৃত করে অপব্যবহারসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিবর্তিত বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্টের ঘটনা বাড়ছে।
জাতিসংঘ সব অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নারীদের অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে কাজ করে আসছে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশে অবস্থিত বিশ্ব সংস্থাটির কার্যালয়। তারা আরও বলে, নারীদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা প্রদান করছে জাতিসংঘ। নারীসহ সব ভোটার যেন ভয়ভীতি–বৈষম্য–অনলাইন নির্যাতন বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই প্রার্থী ও ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব অংশীদার, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতা, তাদের দল ও সমর্থকদের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ বলেছে, যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতি কোনো প্রকার হয়রানি, সহিংসতা বা ভয়ভীতি দেখানো না হয়। এটি নারী প্রার্থী ও ভোটারদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য, যাদের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।
বার্তায় আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকারসহ সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলে বিশ্বাস করে জাতিসংঘ। সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতের জন্য সব সময় সরকারের পাশে থেকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সংস্থাটি।