News update
  • 12 Chinese companies interested to invest over $9bn in Bangladesh     |     
  • BNP govt solved Rohingya crisis twice before, will do so again: FM     |     
  • Venezuela earthquakes kill 920, tens of thousands missing     |     
  • Search Continues After Venezuela Quakes Kill 235     |     
  • Dhaka, Beijing sign 13 MoUs to deepen cooperation across key areas     |     

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস, বাজেটে থাকবে কী নির্দেশনা?

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক খাদ্য 2026-05-13, 12:10pm

b20c9b1a52d3898ac144576278a1c68b8eb3587020871284-9412e6ce3ff1f37f67d07170227116ad1778652631.jpg




রিক্সা মিস্ত্রী ইসমাইল। তার প্রতিদিন কাটে অনেকের আয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়ে। অথচ নিজের রোজগার দৈনিক ৭০০ টাকা। যা দিয়ে সামলাতে হয় ৭ সদস্যের পরিবারের নিত্য দরকারি খরচ। শুধু ব্যয়ই বাড়েনি, ইসমাইলের মতো সাধারণ মানুষের, আয়ও বেড়েছে। তাহলে কেন আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে?

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো- বিবিএস বলছে, ২০২১ সালের জুলাইয়ে যে পণ্য কিনতে ব্যয় করতে হয়েছে ১০০ টাকা, গেল এপ্রিলে তার দাম ঠেকেছে ১৫৫ টাকা ৮২ পয়সায়। এ সময়ে অবশ্য মানুষের আয়ও বেড়েছে। ২০২১ সালের জুলাইয়ে কোনো মানুষের আয় ১০০ টাকা থাকলে বাড়তে থাকা মজুরিতে গেল এপ্রিলে তা হয়েছে ১৪৪ টাকা ৭১ পয়সায়।

অর্থাৎ গেল ৪ বছর ৯ মাসে উসকে যাওয়া মূল্যস্ফীতিতে যেখানে কোনো পণ্য কিনতে বা সেবা নিতে মানুষের ব্যয় বেড়েছে ৫৫ টাকা ৮২ পয়সা, সেখানে আয় বেড়েছে ৪৪ টাকা ৭১ পয়সা।

সাধারণ মানুষ বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে পড়ে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে না পেরে প্রতি মাসেই ভাঙতে হচ্ছে তাদের সঞ্চয়, করতে হচ্ছে ধার অথবা কমাতে হচ্ছে প্রয়োজন। প্রায় ৫ বছর ধরে এভাবে চলা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে এবার স্বস্তি দিতে চায় সরকার। দ্রুত গতিতে বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে বাজেটে তা সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হতে পারে। এমন আভাসই দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

যদিও, বাস্তবতা বলছে ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর গেল ৪৫ মাসে একবারের জন্যও ৮ শতাংশের নিচে নামেনি ভোক্তা ব্যয় বাড়িয়ে দেয়া এই সূচক।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার আর বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম যেভাবে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়েছে; তা কমাতে না পারলে মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় নামবে না।  

ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, আগে মার্কেটে পণ্যের যা সাপ্লাই ছিল, তা ধীরে ধীরে কমে এসেছে। এ কারণে প্রাইসের ওপর প্রেশার পড়ছে। মূল্যস্ফীতি কমাতে প্রাইভেট সেক্টরকে সহায়তা না করলে সাপ্লাই শর্টেজ থেকে বের হওয়া যাবে না।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে ব্যয় বৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্তি দিতে মুদ্রা, রাজস্ব আর রাজনীতি- এই তিন দর্শন মিলিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনাকে সাজানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু ইউসুফ বলছেন, মুদ্রা ও রাজস্বনীতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা এই তিনটি বিষয়কে যদি স্মুথ করা যায়, তাহলে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও, তা নিয়ে কাজ করার সুযোগ থাকবে।

মূল্যস্ফীতিকে বাগে আনতে গিয়ে যেন আয়ের পথ সংকুচিত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখার তাগিদ সাধারণ মানুষের।