News update
  • Dhaka’s air quality moderate on Sunday morning     |     
  • Special prayer held at DU on 45th death anniv of Ziaur Rahman     |     
  • 55-year-old dies in Chuadanga as fibrous mango bit blocks throat     |     
  • Dhaka's air quality ‘moderate’ during Eid holiday     |     
  • Thousands of tourists flock to Kuakata during Eid festival     |     

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক খবর 2023-01-10, 8:35am

resize-350x230x0x0-image-206691-1673294238-2ae659ad6a52653138d63db290b1778d1673318100.jpg




জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি)। মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিক ইতিহাসে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। জাতির পিতার স্বদেশে প্রত্যাবর্তনে পূর্ণতা পায় সার্ভভৌম বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগ যে সুফল বয়ে আনেনি তার প্রমাণ ঘটে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের উৎপত্তি। আর এটা সম্ভব হয়েছে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে। এই সংগ্রামের নের্তৃত্ব দিয়েছেন সর্বকালের সেরা বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতিকে মুক্তির মহামন্ত্রে উজ্জীবিত করে মুক্তিযুদ্ধের পথে নিয়ে যান তিনি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে রাতে পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করে তদানিন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে বাঙালি জাতি দখলদার পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। বিশ্ব-মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে নতুন একটি দেশের অভ্যুদয় ঘটে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। স্বাধীন দেশে ওই সময় আরেকটি সংগ্রাম শুরু হয়, বঙ্গবন্ধুকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু আদৌ বেঁচে আছেন কিনা কিংবা পাকিস্তান সরকার তাকে ফিরিয়ে দেবে কিনা- সেসব নিয়ে চলে নানান জল্পনা-কল্পনা।

সব জল্পনা-কল্পনা পেছনে ফেলে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি কারাগারে দীর্ঘ ৯ মাস কারাভোগের পর মুক্তি লাভ করেন। স্বাধীনতার ২৩ দিন পর ১৯৭২ সালের এদিন অর্থাৎ মুক্তি পাওয়ার দুদিন পর ১০ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন।

বঙ্গবন্ধু মুক্তি পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশে আসতে চাইলেও জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী তা সম্ভব ছিল না। আইন অনুযায়ী সম্ভব ছিল না প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করা। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তৃতীয় দেশ হিসেবে ইরান অথবা তুরস্ককে বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে বঙ্গবন্ধু নাকচ করে দেন। এরপর তাকে লন্ডন হয়ে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। কারণ বাংলাদেশের পর ওই সময় সবচেয়ে বেশি বাঙালির বসবাস করত ব্রিটেনে। ব্রিটেন বাঙালি প্রবাসীদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ছিল আত্মিক যোগাযোগ। ১৯৫৬ সাল থেকেই ছিল তার বিলেতে যাতায়াত। তাই তিনি বেছে নিয়েছিলেন লন্ডনকে।

বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পূর্বে প্রথমে লন্ডনে যান বঙ্গবন্ধু। পরে দিল্লি হয়ে ঢাকায় ফেরেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান থেকে বিমানে তুলে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ছয়টায় তিনি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে একটি বিশেষ ফ্লাইট ৬৩৫ এ করে অবতরণ করেন। এরপর সকাল ১০টার পর তিনি কথা বলেন ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে। তারপর টেলিফোনে কথা বলেন প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গেও। পরে ব্রিটেনের বিমানবাহিনীর একটি বিমানে করে ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন। ১০ তারিখ সকালে তিনি দিল্লিতে নামেন। সেখানে তার জন্য একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তার আয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সেখানে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

পরে একইদিন (১০ জানুয়ারি) স্বাধীন দেশে বিজয়ীর বেশে সোনার বাংলায় পদার্পন করেন জাতির জনক।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ প্রতিবছরের মত এবারও নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। পাশাপাশি সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। এগুলোরে মধ্যে রয়েছে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে আটটায় ধারমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ম্রদ্ধা নিবেদন। বিকেল তিনটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা হবে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়া দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য দেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সংগঠনের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির অনুরূপ কর্মসূচির আয়োজন করবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে দিবসটির সকল কর্মসূচি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালনের জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সকল সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তথ্য সূত্র আরটিভি নিউজ।